সবাই একশতে একশ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:২৯ এএম

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের লেভেল-২ সেমিস্টার-২ এর চূড়ান্ত পরীক্ষার দুটি কোর্সে সব শিক্ষার্থীই সমান গ্রেড পয়েন্ট পেয়েছেন। লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি কুইজ, মিডটার্ম, মৌখিক পরীক্ষায়ও তারা পেয়েছেন শতভাগ নম্বর। এমনকি উপস্থিতির জন্য বরাদ্দ নম্বরেরও শতভাগ পেয়েছেন তারা। একাধিক বিষয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর এই শতভাগ নম্বর পাওয়া জন্ম দিয়েছে

আলোচনা-সমালোচনার। কোর্স ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দাবি, সব শিক্ষার্থীর শতভাগ নম্বর পাওয়ার বিষয়ে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। তবে এই ঘটনায় বিস্মিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।  
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের লেভেল-২ এর চূড়ান্ত পরীক্ষায় সোসিওলজি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পরীক্ষার নম্বরপত্রে ১১১ শিক্ষার্থীর ১১১ জনই গ্রেড পয়েন্ট ৪ এর মধ্যে ৪ পেয়েছেন। উপস্থিতি (৫ এ ৫), কুইজ (৫ এ ৫), মিড (১০ এ ১০), চূড়ান্ত পরীক্ষা (৩০ এ ৩০) মিলে মোট ৫০ এর মধ্যে ৫০ নম্বর পেয়েছেন ওই ১১১ জনই। একই ঘটনা ঘটেছে ওই বিভাগের রুরাল সোসাইটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কোর্সেও। এ ক্ষেত্রেও ১১৩ শিক্ষার্থীর ১১৩ জনই শতভাগ নম্বর পেয়েছেন।
স্টুডেন্ট নম্বর না থাকা কয়েক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ দেখানো হয়েছে। তারাও পেয়েছেন শতভাগ নম্বর। নম্বরপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, ১০৪ থেকে ১১৩ নম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীর স্টুডেন্ট নম্বর নেই, তাদেরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কোর্স দুটির পরীক্ষক সহকারী অধ্যাপক সাবরিনা মোস্তাফিজ ও সহকারী অধ্যাপক আশরাফী বিনতে আকরামের সঙ্গে কথা বলতে বিভাগে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। বিভাগ থেকে জানানো হয়, সাবরিনা মোস্তাফিজ ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে আছেন। তখন আশরাফী বিনতে আকরামের মুঠোফোনে কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে অবশ্য প্রতিবেদককে নিজেই ফোন করেন আশরাফী বিনতে আকরাম। তিনি বলেন, একটা ল্যাব কোর্সে ছাত্রছাত্রীরা শতভাগ নম্বর পেতেই পারে। আমি হতবাক হয়ে যাই, অফিসিয়াল ডকুমেন্ট কন্ট্রোলার সেকশন থেকে ফাঁস হয় কীভাবে।
ব্যস্ততা দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক মো আব্দুর রশীদ। তবে সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিস অনুষদের ডিন ড. এ টি এম রেজাউল হক বলেন, আমি নম্বরপত্রটি দেখে চমকে গিয়েছি। এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কোর্স শিক্ষকদের আরও সতর্কভাবে খাতা মূল্যায়ন করা উচিত। তা না হলে প্রকৃত মেধাবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. ভবেন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, কে কত মার্ক পেয়েছে সেটা তো আমরা দেখি না, আমরা গ্রেড পয়েন্ট দেখে রেজাল্ট শিট তৈরি করি। ক্লাসে, কুইজে, মিডে না ফাইনালে কে কত পেল সেটা আমরা বলতে পারব না।
রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. ফজলুল হক বলেন, ‘আমি ফলাফলের বিষয়টি জেনে অবাক হয়েছি। কোথাও এই রকম ফল হয় বলে আমার জানা নেই। এ ধরনের ফল বিশ্বে নজিরবিহীন। এ রকম হলে তো শিক্ষাব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত