রাজধানীর গুলিস্তান পুলিশ বক্স ও মালিবাগে পুলিশের ওপর হামলায় ব্যবহৃত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসে (আইইডি) ‘নিম্নমাত্রার’ বিস্ফোরক ব্যবহার করেছিল জঙ্গিরা। বিস্ফোরিত আইইডির বিভিন্ন আলামত পরীক্ষার পর বিস্ফোরক পরিদপ্তর এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কাছে। প্রতিবেদনে সালফার জাতীয় বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুলিশের ওপর গুলিস্তান ও মালিবাগে হামলার আলামত বিশ্লেষণের প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। বাকি তিন (পল্টন, খামারবাড়ি ও স্যায়েন্স ল্যাব) ঘটনার আলামত পরীক্ষার কাজ চলছে। এসব আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন শিগগিরই তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এসব পরীক্ষা আবারও রিভিউ (পুনঃপরীক্ষা) করা হবে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত আইইডিগুলো তৈরিতে সালফার জাতীয় বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করেছিল হামলাকারীরা, যা খোলাবাজারেই পাওয়া যায়। বিস্ফোরক পরিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, আইইডিগুলোতে যে বিস্ফোরক পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছে, তা মূলত নিম্নমাত্রার।
সিটিটিসির বোম্ব ডিজপোজাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রহমতুল্লাহ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রতিবেদন পেয়েছি। তবে পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়নি। সিটিটিসির অপর এক কর্মকর্তা বলেন, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের দেওয়া প্রতিবেদন এখনই চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ করা
হয়নি। দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষার পর বিস্ফোরক দ্রব্যের মাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
২৯ এপ্রিল গুলিস্তান পুলিশ বক্সের কাছে ও ২৬ মে মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে আইইডির বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ২৩ জুলাই রাতে খামারবাড়ি ও পল্টন পুলিশ বক্স থেকে আরও দুটি আইইডি উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ গত ৩১ আগস্ট সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার পুলিশ বক্সের কাছে আরেকটি আইইডির বিস্ফোরণ ঘটনো হয়। এসব ঘটনার পর থেকেই সিটিটিসির একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সিটিটিসির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এইসব হামলায় জামায়াতে ইসলামী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির লোকজন জড়িত; যারা বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মনে করে পুলিশকেই হামলার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিটিটিসির একাধিক বোমা বিশেষজ্ঞ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গুলিস্তান, মালিবাগ ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় পুলিশকে টার্গেট করে আইইডি হামলার পর আলামত বিশ্লেষণ করে তাদের মনে হয়েছে, এসব হামলার পেছনে একই জঙ্গি গোষ্ঠী বিশেষ করে নব্য জেএমবির সদস্যরা জড়িত।
তদন্তকারী একাধিক কর্মকর্তা জানান, গুলিস্তান পুলিশ বক্সের কাছে হামলার পর আলামত হিসেবে ঘটনাস্থল থেকে চার ইঞ্চি দৈর্ঘ্যরে একটি লোহার পাইপ, তার ও ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। মালিবাগ এবং স্যায়েন্স ল্যাবেও প্রায় একই ধরনের আইইডি ছিল। এগুলোর পাইপে যে ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করেছিল হামলাকারীরা, তার নমুনা হিসেবে পাইপের টুকরা, সেখানকার বালু ও মাটি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল বিস্ফোরক পরিদপ্তরে। পল্টন ও খামারবাড়ি পুলিশ বক্স থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া আরও দুটি আইইডি পাঠানো হয় বিস্ফোরক পরিদপ্তরে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের ওপর পরপর পাঁচ হামলার ঘটনার তদন্তে একাধিক টিম কাজ করলেও এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। কারা কীভাবে এসব আইইডি তৈরি করেছিল সে বিষয়েও কোনো তথ্য উদ্ধার হয়নি।
