বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮-এর নতুন সব পদে চলতি অর্থবছরেই শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের নিজ কার্যালয়ে এ আবেদন করেন জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী।
এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। স্কুল-কলেজের মতোই মাদ্রাসাশিক্ষকরাও সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তাই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। তিনি বলেন, অর্থ সচিব দেশের বাইরে আছেন উনি এলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। মাদ্রাসার উন্নয়নে দ্রুত সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদনে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত ইচ্ছায় মাদ্রাসা শিক্ষার ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে, এজন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। ১৯৯৫ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জারিকৃত জনবল কাঠামো অনুযায়ী বর্তমান পর্যন্ত মাদ্রাসায় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন। ওই সময় মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা এইচএসসি সমমানের ছিল। সেই হিসাবেই এখনো শিক্ষক-কর্মচারী মাদ্রাসায় কর্মরত আছেন।
বর্তমান সরকারের আমলে মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, ইংরেজি, বাংলা, বিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ, অর্থনীতি, পৌরনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয় বাধ্যতামূলক করে মাদ্রাসা শিক্ষাকে অনার্সসহ মাস্টার্স স্তর (এমএ) পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে। এরই আলোকে সিলেবাস, কারিকুলাম প্রণয়ন করে পাঠদান চলছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় ১৯৯৫ সালে জারিকৃত এইচএসসি মানের শিক্ষক দ্বারাই মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি অনুধাবন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালে নতুন জনবল কাঠামোসহ এমপিও নীতিমালা প্রণয়ন করে, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ও অতিরিক্ত বাজেট না থাকায় বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এতে মাদ্রাসা শিক্ষা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব (অর্থ বিভাগ) বরাবর পর্যায়ক্রমে চার বছরে নতুন পদে শিক্ষক নিয়োগের অর্থ বরাদ্দের পত্র দেওয়া হয়। আমরা মনে করি পর্যায়ক্রমে আগামী চার বছরে শিক্ষক নিয়োগ করা হলে মাদ্রাসা শিক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই চলতি অর্থবছরে নতুন সৃষ্ট পদে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন।
স্কুল-কলেজে ২০১৮ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, চলতি বছরে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষায় এখনো এ নীতিমালা বাস্তবায়ন হয়নি।
