সিআইপি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী

উন্নয়ন যাত্রায় চ্যাম্পিয়ন ব্যবসায়ীরাই

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৪৬ এএম

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে গতিশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। দেশের আজকের এ অবস্থানের পেছনে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের চ্যাম্পিয়ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে রপ্তানি খাত থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলার আয়ের যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, আমার স্থির বিশ্বাস ব্যবসায়ীরা তা অর্জন করতে পারবেন। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া চলমান থাকবে। ব্যবসায়ীদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় সেই লড়াই সফল হবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অর্থনৈতিক মুক্তি আসবে।

গতকাল বুধবার ২০১৭ সালে রপ্তানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য যেসব ব্যক্তি বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তাদেরকে ‘সিআইপি কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে ১৭ খাতের ১৩৬ ব্যবসায়ীকে সিআইপি (রপ্তানি) কার্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের ওই সময়ের পরিচালনা পর্ষদের ৪৬ জনকে সিআইপি (ট্রেড) কার্ড দেওয়া হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী এসব ব্যক্তির হাতে কার্ড তুলে দেন। গতকালের অনুষ্ঠানে যেসব ব্যবসায়ী সিআইপি কার্ড পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন স্কয়ার ফ্যাশনসের এমডি তপন চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হা-মীম গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বর্তমান সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন, বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান, মেঘনা গ্র“পের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল, আকিজ গ্র“পের শেখ নাসির উদ্দিন, প্রাণ গ্র“পের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, শারমিন গ্র“পের এমডি মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন প্রমুখ।

আগামীতে সিআইপির সংখ্যা বাড়ানো এবং সিআইপি নির্বাচনে আরও বেশি খাত সম্পৃক্ত করার নির্দেশনা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, এখন ৪৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হচ্ছে। দেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের পথে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন বলেই এই অবস্থায় গেছে দেশ। তবে ব্যবসায়ীদের এটাও মনে রাখতে হবেÑ উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে যেসব সুবিধা আছে তার অনেক সুবিধাই থাকবে না। এজন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে। নতুন পণ্য ও বাজার সৃষ্টি করতে হবে। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ভেনেজুয়েলার উদাহরণ দিয়ে বলেন, সমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলা এখন দুর্ভিক্ষের পথে যাচ্ছে। এটাকে বলা হয় ‘ডাচ ডিজিজ’। কোনো দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি যদি একটি খাত থেকে আসে এবং ব্যাংক খাত অব্যবস্থাপনায় পড়ে তাহলে তাকে ডাচ ডিজিজ বলা হয়। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশ আসছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণ জরুরি।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ব্যবসাবাণিজ্য সম্প্রসারণে দক্ষতা উন্নয়ন এখন জরুরি। এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও মূল উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।

বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, সম্ভাবনাও আছে। চীন, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাজার। তবে নতুন বাজারের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন জরুরি। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। নতুন পণ্য তৈরি করতে হবে।

সিআইপিপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে এনভয় গ্র“পের এমডি ও সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, দেশে বিভিন্ন খাতে উন্নতি অনেক হচ্ছে, তবে তা যথেষ্ট নয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে নিজেদের কার্যক্রমও গতিশীল হতে হবে। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সিআইপিপ্রাপ্ত প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য সরকারকে কারখানার উৎপাদন খরচ কমানো, অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান বেগম ফাতিমা ইয়াসমিন স্বাগত বক্তব্যে বলেন দক্ষ জনবল সৃষ্টি, পণ্যের মানোন্নয়ন ও নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে।

সিআইপি নির্বাচন কমিটির প্রধান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, সিআইপি নির্বাচন নীতিমালা সংশোধন করা হচ্ছে। বর্তমানে ২২ খাতে সিআইপি দেওয়া হয়। নতুন নীতিমালায় খাত ও মোট সিআইপির সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত