বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নতুন নেতা নির্বাচনে গতকাল বুধবার দিনভর নানা নাটকীয়তার পর রাত ৮টার দিকে শুরু হয় কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণ। শেষ হয় রাত সাড়ে ১২টার দিকে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোটের ফল জানা যায়নি। দীর্ঘ ২৭ বছর পর সংগঠনটির শীর্ষ দুই পদÑ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করতে গোপন ব্যালটে ভোট দেন তারা। এজন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের রাজধানীর শাহজাহানপুরের বাসায় দুটি বুথ স্থাপন করা হয়। একে একে
সংগঠনটির সারা দেশের ১১৮টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৩০ কাউন্সিলর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন। কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি পদে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ ও ফজলুর রহমান খোকন এগিয়ে রয়েছেন। আর সাধারণ সম্পাদক পদে এগিয়ে আছেন মো. শাহ নেওয়াজ ও আমিনুর রহমান আমিন।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ এই কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল সরাসরি ভোটের মাধ্যমে। গত ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকার চতুর্থ জজ আদালত বিলুপ্ত কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহর দায়ের মামলায় স্থগিতাদেশ দেয়। একই সঙ্গে আদালত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের কাউন্সিল স্থগিত করা হয়।
গত মঙ্গলবার সারা দেশের কাউন্সিলরদের গতকাল বিকেল ৫টার মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসতে বলা হয়। সেদিন লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে কাউন্সিলরদের মোবাইলে ফোন দিয়ে এ কথা জানান বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী। এরপর গতকাল দুপুর থেকেই কাউন্সিলররা একে একে জড়ো হতে থাকেন বিএনপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে। এ সময় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা নিজ নিজ সমর্থকদের নিয়ে ‘শোডাউন’ দেন। কার্যালয়ের প্রবেশ পথে দুই সারি করে প্রার্থীদের সমর্থক নেতাকর্মীরা কাউন্সিলরদের স্বাগত জানান। পরে কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স রুমে প্রার্থীদের নিয়ে বসানো হয়। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী নির্বাচনে যেকোনো সময়ে ভোটগ্রহণ হতে পারে। পরে সিদ্ধান্ত হয় মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসায় ভোট হবে।
এ বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় ছাত্রদলের কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি মিজানুর রহমান রাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলরদের কার্যালয়ে আসতে বলা হলেও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ভোটগ্রহণের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেননি। আমরা তার নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।’
এর আগে বিকেলে একে একে কার্যালয়ে আসেন সাবেক ছাত্রদলের নেতারা, যারা ছাত্রদলের কাউন্সিল পরিচালনার জন্য বিএনপি গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। বিকেল ৫টায় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় এসব নেতার সঙ্গে স্কাইপের মাধ্যমে বৈঠক করেন তারেক রহমান। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে অংশ নেন শামসুজ্জামান দুদু, রুহুল কবির রিজভী, ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, আজিজুল বারী হেলাল, এবিএম মোশাররফ হোসেন, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিকেল ৫টায় কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণের কথা থাকলেও কার্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় তা স্থগিত করা হয়। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে মির্জা আব্বাসের বাসায় কাউন্সিলরদের ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভাপতি প্রার্থীরা হলেন : ফজলুর রহমান খোকন, হাফিজুর রহমান, মামুন বিল্লাহ (মামুন খান), সাজিদ হাসান বাবু, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, মাহমুদুল আলম সরদার ও কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা হলেন : মো. শাহ নেওয়াজ, আমিনুর রহমান আমিন, জাকিরুল ইসলাম জাকির, তানজিল হাসান, কারিমুল হাই নাঈম, মাজেদুল ইসলাম রুমন, ডালিয়া রহমান, শেখ আবু তাহের, সাদিকুর রহমান, কেএম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন শ্যামল, জুয়েল হাওলাদার, মুন্সি আনিসুর রহমান, মিজানুর রহমান শীরফ, শেখ মো. মসিউর রহমান রনি, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম।
মির্জা ফখরুলের নিন্দা : গত মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কুমিল্লা দক্ষিণ ছাত্রদল সভাপতি নাদিমুর রহমান শিশির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আতিক রুবেল, ঢাকা কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদল নেতা সজিব হোসেন স্বাধীনকে গ্রেপ্তারের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা জানান।
