মেট্রোরেলে যাত্রীদের জটলা। মধ্যমণি স্মার্ট যুবক। ছবি তুলছেন, হাত মেলাচ্ছেন। মোবাইল ঠিকঠাক ধরতে না পারলে নিজ হাতে নিয়ে সাহায্য করছেন। হাসিমুখে সবার আবদার মেটাচ্ছেন। তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্র যখন অভিবাসী নিয়ে কট্টর, তার দ্বার খোলা। এমন ট্রুডোর ব্যক্তিত্ব মুগ্ধ বিশ্ব। নিজেকে বিশ্বরাজনীতির পাদপ্রদীপেও জনপ্রিয় নেতা করে তুলেছেন।
যার সঙ্গে একটি ছবি তুলে ধন্য সবাই। প্রায় দুই দশক আগে তারই একটি ছবি সমালোচনার ঝড় তুলেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এটি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ট্রুডো। বলা হচ্ছে, ছবিটি নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। ভোটে ভাটাও আনতে পারে। কারণ ছবিতে ট্রুডোকে ‘ব্রাউনফেস’ মেকাপে দেখা গেছে। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্ণবাদী অ্যাখ্যা দিয়ে হামলে পড়েছে। ‘ব্রাউনফেস’ মেকআপকে বর্ণবাদী মনে করা হয়। কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের চরিত্রে অভিনয়ে আদিকালে শিল্পীরা এ মেকআপ নিতেন।
বিবিসি বলছে, স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে ট্রুডোকে ‘ব্রাউনফেস’ মেকআপ অবস্থার ছবিটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন। পরে ট্রুডো সাংবাদিকদের কাছে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, ‘আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। বিষয়টি নিয়ে আরও ভালো ধারণা থাকা উচিত ছিল। দায় স্বীকার করছি, এমনটি করা উচিত হয়নি। আমি আসলে মেকআপের মানে জানতাম না। আমি বর্ণবাদে বিশ্বাসী নই।’ কানাডার প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জাস্টিন ট্রুডো এক সময় ভ্যানকুভার বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তার দাবি, অ্যারাবিয়ান নাইটসের একটি অনুষ্ঠানে আলাদিনের চরিত্রে অভিনয় করতে তিনি ওই মেকআপ নেন।
আগামী ২১ অক্টোবরের নির্বাচনে জাস্টিন ট্রুডোও প্রার্থী। এখন ছবিটি ব্যবহার করে বিরোধীপক্ষ তার বর্ণবাদী চরিত্রের জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে ট্রুডো বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। বর্ণবাদী ‘ব্রাউন’ ও ‘ইয়েলোফেস’ নিয়ে সম্প্রতি অনেক রাজনীতিকই বিপাকে পড়েছেন। তাদের তালিকায় সবশেষ এলেন ট্রুডো।
