মারাত্মক সেপসিস রোগ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম

সেপসিস খুব মারাত্মক একটি রোগ, যা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দেহের রক্তের কার্যক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। এই রোগ দেহের যেকোনো জায়গায় হতে পারে। রোগ-জীবাণু রক্তপ্রবাহে ঢুকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে। সাধারণত শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতা এই আক্রমণকে প্রতিহত করতে পারে। কিন্তু, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এই ধকল সামলানো কঠিন। বিশেষত, শরীরের রক্তকে প্রভাবিত করে। সাধারণত দেহের যে যে জায়গায় এই সংক্রমণ ঘটতে পারে, তা হলোÑ অন্ত্রে, কিডনিতে, ঘিলুর ভাঁজে, যকৃতে, গলব্লাডারে, ফুসফুসে (ব্যাকটেরিয়াল নিউমোনিয়া) ও ত্বকে। এ ছাড়া, শিশুদের হাড়ে এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে বাঁচাতে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও থেরাপি জরুরি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংক্রমিত হয়। যেমন ফুসফুসের সংক্রমণ। অ্যান্টিবায়োটিক নিলে কয়েক দিনেই ভালো হয়ে যেতে পারে এই সংক্রমণ। কিন্তু, ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের অবস্থা কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মারাত্মক হয়ে যায়। প্রাথমিক স্থান থেকে জীবাণু অন্য জায়গায় চলে যায়। এই রোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খুবই কম বয়সী বা প্রবীণদের হয়। অবশ্য, এই রোগ যে কারোরই হতে পারে। বিশেষ করে, কোনো ক্ষত কিংবা পোড়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, ডায়াবেটিস, এইডস, কিডনি বা লিভারের রোগ, ক্যানসারসহ দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এদের ক্ষেত্রে এই রোগ ধরা পড়লে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। বেশির ভাগই হাসপাতালে বড় বড় অপারেশনের পর ক্ষত সারতে অনেক দিন লেগে যায়। কারণ, এটা জীবাণুদের জন্য এক উর্বর স্থান। এ কারণে হাসপাতালের স্বাস্থ্যরক্ষার দিকে নজর রাখাটা অত্যন্ত জরুরি।

রোগের লক্ষণ

১. এই রোগে রক্তচাপ কমে যায়। অল্প রক্তচাপের কারণে মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি হয়, ২. তলপেটে ব্যথা, ৩. মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, ৪. দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, ৫. প্রস্রাব কমে যাওয়া, ৬. খুব বেশি ঘাম হওয়া, ৭. মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, ৮. দেহের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, ৯. প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে যাওয়া, ১০. দ্রুত হৃৎস্পন্দন হওয়া, ১১. ঠাণ্ডা লাগা, কাঁপুনিসহ জ্বর, ১২. ত্বকে চাকা-চাকা লালচে দাগ হওয়া ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয়

সেপসিস রোগ নির্ণয় করতে গেলে, ডাক্তার প্রথমেই লক্ষণ ও উপসর্গ দেখেন এবং যা সুপারিশ করতেও পারেন। তা হলোÑ রক্ত পরীক্ষা, ইউরিন পরীক্ষা, এক্স-রে, এমআরআই, সিটি, আলট্রাসাউন্ড, ক্ষত সিক্রেশন ইত্যাদি।

চিকিৎসা

সেপসিস রোগীকে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আইসিইউতে রাখা হয়। সেপসিসের চিকিৎসা করার জন্য অনেক ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যার মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। এ ছাড়া, করটিকোস্টেরয়েডস, ইনসুলিন ব্যবহার করা যেতেও পারে। সংক্রমণের উৎস সরানোর জন্য ডাক্তার সার্জারির পরামর্শ দিতেও পারেন। ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক ওষুধ এবং তরল একটি শিরার মধ্য দিয়ে দেওয়া হয়। অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং যে ওষুধ রক্তচাপ বৃদ্ধি করে, প্রয়োজনে তাও দেওয়া হয়। বিকল কিডনির জন্য ডায়ালাইসিস করা প্রয়োজন। অকৃতকার্য ফুসফুসের জন্য একটি নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস মেশিন প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধ সেপসিস কমানোর জন্য উন্নত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা দরকার, ফ্লু, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণের টিকা নেওয়া দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত