কমলা-মাল্টাসহ দেশে লেবুজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘সিলেট অঞ্চলের আগের সেই স্মৃতিময় সুস্বাদু কমলা ফিরিয়ে আনতে হবে। নতুন করে কমলার বাগান করতে হবে। এ কমলা ফিরিয়ে আনতে বাগান তৈরির উদ্যোগ নিলে সরকার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ‘লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে লেবুজাতীয় ফসলের উৎপাদন চাহিদার চেয়ে অনেক কম, যা আমদানিনির্ভর। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কমলা, মাল্টা আমদানি করতে হয়। দেশে আমদানি করা এসব কমলা নিম্নমানের। এসব ফলের দাম বেশি হওয়ায় সবার পক্ষে কেনাও সম্ভব নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার লেবুজাতীয় ফসল উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে দেশে লেবুজাতীয় ফসলের উৎপাদন দিনে দিনে বাড়ছে। তবে চাহিদার তুলনায় সেটি অনেক কম।
কর্মশালার বিশেষ অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান জানান, বছরে ১৭ কোটি টাকার কমলা ও মাল্টা আমদানি করতে হয়। আর রপ্তানি মাত্র ১০ কোটি টাকা। আমদানি নির্ভরতা কমাতে না পারলে এ প্রকল্পের কোনো গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। তিনি জানান, কমলা-মাল্টাসহ লেবুজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৬ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। এটি বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। দেশের ৩০ জেলার ১২৩ উপজেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুল মুঈদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক ফারুখ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ মো. হামিদুর রহমান।
