ফাইনালের ড্রেস রিহার্সেল আজ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:১৯ এএম

২৪ তারিখ ফাইনাল। ঢাকায়। তার আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের শিরোপা লড়াইয়ের ড্রেস রিহার্সেল। এই লড়াইয়ে জয়ী দল নতুন আত্মবিশ্বাসে মানসিকভাবে আরও এগিয়ে যাবে অনেকদূর। সেই এগিয়ে যাওয়া দলটা স্বাগতিক বাংলাদেশ হবে নাকি আফগানিস্তান?

২০১৪ সালের পর আফগানদের আর কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচে হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। কথাটা ঠিক কেমন যেন। আফগানদেরও চার বছর আগে কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু বাংলাদেশের। অথচ ২০১৯-এর শেষে এসে দেখা যাচ্ছে পেছনের দলটি কত সামনে! আফগানরা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে সাত। বাংলাদেশ দশ। চলমান সিরিজের প্রথম দেখায় স্বাগতিকদের সহজে হারিয়ে টানা জয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়ে রাশিদ খানরা উৎসব করেছেন মিরপুরের বুকে। সেই তাদের বিপক্ষে টানা চার হারের পর সাগরিকার প্রথম দেখায় কি জয়ে ফিরতে পারবে সাকিব আল হাসানের দল?

এ এক কঠিন প্রশ্ন। সাকিব নিজে কথায় কথায় বারবার এগিয়ে রাখেন আফগানদের। এই দলটা অল্প সময়ের মধ্যে অনেক বেশি টি-টোয়েন্টি খেলেছে। খেলাটায় তাদের মুন্সিয়ানা চোখে পড়ে। মাত্র নেমেছে পাঁচ দিনের টেস্টে। তার আগে তাদের জন্য শুধু সীমিত ওভার ছিল বরাদ্দ। আর বাংলাদেশ তিন ফরম্যাট খেলতে খেলতে মাঝে-সাঝে কোনটা যে কোন ফরম্যাট তাই গুলিয়ে ফেলে। আচমকা কখনো টি-টোয়েন্টিতে উত্থানের আভাস দিয়েও পরে আবার সেই পিছু হাঁটা। জিম্বাবুয়ের মতো অনেক পেছনে পড়ে থাকা দলকেও হারাতে আজ কষ্ট হয়।

টুর্নামেন্টের দুই দেখাতেই জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমটি কোনোমতে। দ্বিতীয়টি চট্টগ্রামে খুব দাপটে। ওয়ানডে, টেস্ট, টি-টোয়েন্টিÑ হঠাৎ করে তিন সংস্করণেই নিজেদের হারিয়ে খোঁজা স্বাগতিকদের জন্য শেষ জয়টা টনিকের মতো। জয়ে ফেরা শুধু নয়, ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে নিজেদের সত্যিকারের শক্তির পুরোটা না হলেও অনেকটা দেখানো গেছে। হারাতে বসা আত্মবিশ্বাস ফিরেছে অনেকখানি। চাঙা হয়েছে মনোবল। আফগানদের শেষবার হারানো একাদশের সাকিব, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ কেবল টিকে আছেন। সাব্বির রহমান শেষ ম্যাচে সুযোগ পাননি। সুতরাং, এটা বাকি খেলোয়াড়দের এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্মৃতি বানানোরও যুদ্ধ। যে লড়াইটা এই অবস্থায় কেউ হারতে চাইছে না।

আগের ম্যাচে ছিল তিন পরিবর্তন। দুজনার অভিষেক হয়েছে। একজন ২০১৭-এর পর ফিরেছেন। অভিষিক্ত দুইয়ের এক টিনএজার লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব আলো ছড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাঁ হাতের তালুতে তিন সেলাই লেগেছে ওই ম্যাচে চোট পাওয়ার পর। আজকে তাই অনিশ্চিত। যদিও কাল সকালে ব্যাটসম্যানদের লেগ স্পিন খেলাতে নেটে খুব বল করলেন।

সেদিন ফেরার চমৎকার গল্প লিখে ৩ উইকেট নেওয়া অভিজ্ঞ পেসার শফিউল ইসলাম গতকাল বলছিলেন, ‘কালকের (আজ) ম্যাচটা আমাদের সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ আফগানদের বিপক্ষে জয়ে ফেরা, শিরোপা জেতার প্রেরণা বাড়ানোসহ অনেক কিছু ভাবনায় রেখে শফিউলরা জিততে প্রাণপণ করবেন। তার উচ্চারণ, ‘(ফাইনালের) প্রস্তুতিটা ভালো করা সম্ভব। আমরা ভালো খেললে এ থেকে সবার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। জয়ের অভ্যাসটা আমাদের ফাইনাল খেলার জন্য সহায়তা করবে।’ এর সঙ্গে তার দামি ফুটনোট, ‘আমরা যদি আমাদের ভুলগুলো শুধরাতে পারি, যে যার কাজটা ঠিকমতো করতে পারি, শতভাগ দিতে পারি তাহলে ওদের হারানো সম্ভব।’

তিন পেসার আর দুই স্পিনার নিয়ে আগের ম্যাচে সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশ বিপ্লবকে না পেলে কাকে নেবে? আফগানরা স্পিন ভালো খেলে। তাদের বিপক্ষে স্বাগতিকদের স্পিন মারাত্মক হতে পারছে না সেই টেস্ট থেকে। এই জায়গাতে টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনা আছে।

রাশিদ খানের দলের ‘রহস্য স্পিনার’ তরুণ মুজিব উর রহমান শেষ ম্যাচে ধসিয়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। উইকেট অবশ্য খুব বিলিয়েছিলেন সাকিব-মুশফিকরা। এলোমেলো দলকে সবদিক থেকে আরও ব্যর্থতায় ঠেলে দিয়েছিল আফগান বোলিং লাইনআপ। আর ব্যাটিংয়ে দেখিয়েছিল বেশ দাপট। চট্টগ্রামের উইকেট রানপ্রসবা। এখানে বোলিং আঁটসাঁট না হলে বাংলাদেশের বিপদ হতে পারে। যদিও গেল ম্যাচে বেশ ভালো রান উঠেছে। কিন্তু রান আরও তোলা সম্ভব ছিল। সেখানে সামর্থ্যরে প্রকাশে ঘাটতি চোখে লেগেছে। প্রতিপক্ষের বৈচিত্র্যময় স্পিন সামলানোর পাশে পেস বোলিং নিয়ে সতর্ক সাকিবরা। এটাও ঠিক, নিজেদের ব্যাটিংয়ের ভুল না শুধরাতে পারলে আরেকটি হার নিয়ে যেতে হবে ফাইনালে।

ফাইনালের আগে ফাইনালে জয় যেমন আত্মবিশ্বাসের পালে দেবে বাড়তি হাওয়া, তেমনি হারে শঙ্কা থাকে মনস্তত্ত্বে নতুন ক্ষত সৃষ্টির। কারণ, গত বছর এই প্রতিপক্ষের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। একমাত্র টেস্টের পর কুড়ি ওভারে আরেকটি হার ফেলে রেখেছে নতুন হতাশায়। সেই হতাশার চোরাবালি থেকে উঠে আসার লড়াই বাংলাদেশের। না পারলে ডুবতে হবে আরও। আবার হার হয়ে উঠতে পারে আত্মবিশ্বাস হন্তারক।

তাই এটা দারুণ চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জটা নিতে পারবে তো?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত