যুক্তরাষ্ট্রে পালাল পাকিস্তানি অধিকারকর্মী গুলালি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:০৫ এএম

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে জনমত গঠনের ‘অপরাধে’ মাতৃভূমি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন পাকিস্তানের নারী ও শিশু অধিকারকর্মী গুলালি ইসমাইল।

এই অধিকারকর্মী ওয়াশিংটনে এএফপিকে বলেন, ‘যদি আমি এটা (দেশত্যাগ) না করতাম, বছরের পর বছর আমাকে কারাগারে থাকতে হতো। আমার কণ্ঠস্বর কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে আটকে যেত।’ তার বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে কবে, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পৌঁছেছেন, সে ব্যাপারে গণমাধ্যমে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কে তার বোনের সঙ্গে আছেন। রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে।

চলতি বছর মে মাসে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শহরতলি এলাকায় ১০ বছরের শিশু ফারিশতাকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে দৃঢ় অবস্থানের কারণে ‘সামাজিক অস্থিরতা’ সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে গুলালির বিরুদ্ধে। তাকে গ্রেপ্তারে হন্যে হয়ে ওঠে পাকিস্তান পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে কয়েক মাস আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। সেই অবস্থাতেই গোপনে শ্রীলঙ্কা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি।

তার বাবা মোহাম্মদ ইসমাইল বিবিসিকে জানিয়েছেন, মাত্র ১৬ বছর বয়স থেকেই গুলালি ইসমাইল মানবাধিকার, বিশেষ করে নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ শুরু করেন। সে সময় পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ (খাইবার পাখতুনওয়া) নারীদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতে ‘অ্যাওয়ার গার্লস’ নামে একটি এনজিও গড়ে তুলেছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে ১০০ নারী ‘অ্যাওয়ার গার্লস’ নামে একটি দল গঠন করে, যার কাজ ছিল পারিবারিক নারী নির্যাতন ও বাল্যবিবাহরে বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়া। নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে অনেক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত