মির্জা ফখরুলদের বসিয়ে রাখলেন খোকন-শ্যামল

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:১৯ এএম

প্রথম কর্মসূচিতেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বসিয়ে রেখে দেরিতে এলেন ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। গতকাল শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর প্রাঙ্গণে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষায় ছিলেন জ্যেষ্ঠ নেতারা।

কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা প্রার্থী ছিলেন তারাও নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দেশ রূপান্তরকে তারা বলেন, ‘প্রথম কর্মসূচিতেই তাদের অনেককে ফোন দেননি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।’

ছাত্রদলের নতুন দুই নেতার বিলম্বে ত্যক্তবিরক্ত হয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা এক পর্যায়ে বলেন, ‘এদের অবস্থা শুরু  থেকেই দেখা যাচ্ছে পদ হারানো ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর মতো। তারাও নাকি নিজেদের প্রোগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাওয়াত দিয়ে পরে উপস্থিত হতেন।’

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা শেরেবাংলা নগরের এক গেটে মহাসচিবকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু মহাসচিব অন্য গেট দিয়ে প্রবেশ করার কারণে তাদের দেরি হয়েছে কবর প্রাঙ্গণে যেতে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যকে প্রোটোকল দিতেই ওই বিলম্ব হয় তাদের।

গত শুক্রবার রাতে বিএনপির দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে পাঠানো এক খুদেবার্তায় জানান, ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জিয়ার মাজারে যাবেন সকাল ১০টায়। কিন্তু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যান ১১টার দিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের কাউন্সিলের এক সভাপতি প্রার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ১৯  সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সারা দেশের কাউন্সিলরদের গোপন ব্যালটে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন খোকন ও শ্যামল। এরপর গতকাল তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে যান। জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানানোর সময় ছিল সকাল ১০টা। নির্ধারিত সময়ে কবর প্রাঙ্গণে আসেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা আসার প্রায় এক ঘণ্টা পর খোকন ও শ্যামল যান জিয়ার কবর প্রাঙ্গণে। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় তারা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানান। শুরুতেই তারা এমনটা করেছেন।

তিনি বলেন, ছাত্রদলের পূর্বনির্ধারিত এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য খোকন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ফোন করেননি। এমনকি ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান ছাত্রদলের একাধিক ইউনিটের নেতাদের ফোন করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য।

কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যারা নির্বাচন করেছেন, তাদের কয়েকজন দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর সৌজন্যবশতও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করা অন্যান্য প্রার্থীর সঙ্গে  যোগাযোগ করেননি তারা। এমনকি কর্মসূচি নির্ধারণ করেও তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করার আহ্বান জানাননি। জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিতেও তাদের ডাকা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বেশিরভাগ প্রার্থী এ কর্মসূচি বয়কট করেন। যারা কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তারা নিজ উদ্যোগে গিয়েছেন।

 ক্ষোভ প্রকাশ করে সভাপতি পদে পরাজিত এক প্রার্থী বলেন, ‘খোকন সভাপতি ও শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরে পরাজিত কোনো প্রার্থীকে এখন পর্যন্ত ফোন করেননি। সাধারণ সম্পাদককে অভিনন্দন জানাতে কেউ কেউ  ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি জিয়াউর রহমানের কবরের সামনেও পরাজিত কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন ইকবাল হোসেন শ্যামল।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বলেন, ‘নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মসূচিতে গিয়ে সভাপতির সঙ্গে দেখা করে কোলাকুলি করেছি। কিছুক্ষণ পর সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা হলে তার দিকে হাত বাড়ালে তিনি এড়িয়ে যান। বিষয়টি দুঃখজনক। ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সবার। সেভাবেই তাদের আচরণ করার উচিত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত