শাবিপ্রবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে বেনামি শ্বেতপত্র

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:১৭ এএম

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, স্বৈরাচারী আচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ ৫৩টি অভিযোগের ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশিত হয়েছে। গত শনিবার ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার শাবিপ্রবির শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ’ পরিচয়ে শ্বেতপত্রটি প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি শ্বেতপত্রটিকে বেনামি উল্লেখ করে বলেন, ‘শ্বেতপত্রটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যে বা যারা এ শ্বেতপত্রটি প্রকাশ করেছেন, তাদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল। কারণ এসব অভিযোগের সত্যতা থাকলে তারা নাম প্রকাশ করতেন। প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলতেন।’

২৪ পৃষ্ঠার এ শ্বেতপত্রে শিক্ষক নিয়োগে শাবিপ্রবি গ্র্যাজুয়েটদের বঞ্চিতকরণ, মেধা তালিকার প্রথমদিকের প্রার্থীদের নিয়োগ না দিয়ে অঞ্চল প্রীতির কারণে ৩৯তম, ৫০তম, ৬৩তম এমনকি ৭১তম প্রার্থীদের নিয়োগদানসহ ৫৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। 

এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডে শুধু আমি থাকি না। বিভাগীয় প্রধান, ডিন ও এক্সপার্টদের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডের মধ্যে সেরা প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। আমি কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ না করায় বঞ্চিতরা ঢালাওভাবে মিথ্যাচার করছেন। আমার কোনো আত্মীয়স্বজন এই ক্যাম্পাসে চাকরি করেন না আর ভবিষ্যতেও করার সম্ভাবনা নেই।’

শ্বেতপত্রে ইন্স্যুরেন্সের নামে আর্থিক অনিয়ম, সিটিং অ্যালাউন্স বৃদ্ধি, আইসিভিসি সম্মেলনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়, ক্যাম্পাসে অবস্থান না করে প্রতি সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় কোষাগারের টাকা খরচ করে বিমানযোগে ঢাকা যাতায়াত করে অর্থ অপচয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘স্বাস্থ্য বীমা চালু করার জন্য ২০০৪ সাল থেকে শিক্ষকরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য বীমা চালু করলে কিছু মৌলবাদী শিক্ষক এর বিরোধিতা করেন। আইসিভি সম্মেলনে ৪০ লাখ টাকা খরচের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অসত্য।’

এদিকে শ্বেতপত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোর কোনো উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ আনা হলেও উপাচার্য বলেন, ‘গত ২৮ বছর থেকে সীমানা প্রাচীরবিহীন ক্যাম্পাসকে আমি যোগদানের পর সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত করেছি। এ ছাড়া ৯৮৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প ইতিমধ্যে পাস হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে আগামী ৩০ বছরেও এই ক্যাম্পাসে আর কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা লাগবে না।’

বিচার প্রার্থীকে শাস্তি প্রদান, কারণ দর্শানোর নোটিসের নামে প্রহসন, জামায়াত তোষণ, বহিষ্কারের হুমকি, জোবাইক সেবার নামে শিক্ষার্থীদের পকেট ফাঁকা করার চেষ্টা, বিভিন্ন অনুষদের ডিন নিয়োগে সরাসরি অ্যাক্ট ভায়োলেশনসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন উপাচার্য।

তিনি বলেন, ‘আমাকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এখানে পাঠিয়েছেন। প্রমোশন আপগ্রেডেশন বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে আমি যোগ্য শিক্ষকদের মূল্যায়ন করেছি। জামায়াত তোষণের প্রশ্নই আসে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত