মৌটুসী বিশ্বাস। নাটকে নানা ধরনের চরিত্রে বিশ্বাসযোগ্য অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। সিনেমায়ও দেখা গেছে তাকে। নতুন একটি ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
নতুন ধারাবাহিক ‘আগুন পাখি’ নিয়ে বলুন...
সব কাজ যে শিল্পীর মনমতো হয় না তা কিন্তু নয়। তবে নতুন এই ধারাবাহিক নিয়ে আমি দারুণ এক্সাইটেড। ‘আগুন পাখি’ নামের ধারাবাহিক নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করছি। শুধু কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছি বলে এই কাজটি আমার কাছে স্পেশাল নয়। এই নাটকে আমার চরিত্রটি আসলেই উল্লেখ করার মতো। ‘আগুন পাখি’ ধারাবাহিকটি নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রখ্যাত সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একই নামের বই থেকে। এটি মূলত তার মা আমেনার জীবনী। আমেনা চরিত্রেই আমি অভিনয় করছি। ধারাবাহিকটি ২০০ পর্ব পর্যন্ত হবে। এটি দীপ্ত টিভিতে প্রচার হবে।
এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতিও নিশ্চয়ই অনেক...
সাধারণত একটি নাটক বা সিরিয়ালে আমরা কাজ করলে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারি না। কিন্তু এই ধারাবাহিকের পরিচালক পারভেজ আমিন কয়েক মাস আগে থেকেই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি তখনই বইটি পড়ি। কাজটি যেহেতু পিরিয়ডিক, তাই আমাকে তিনি আরও কিছু রেফারেন্স বই দিয়েছেন। এখন সেগুলো পড়ছি। সব মিলিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েই কাজটি করব। সব ঠিক থাকলে শিগগিরই শ্যুটিং শুরু হবে। তাই এখন আমেনার সাজ-পোশাক নিয়েও আমাকে বিস্তর ভাবতে হচ্ছে। আমি চাই এমন একজন মানুষকে সুষ্ঠুভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরতে।
আমেনার কোন দিকটি সবচেয়ে আপনাকে আকৃষ্ট করেছে?
আমেনা খুবই সরল একজন মানুষ। সেই সরল মানুষটির চোখে দেশভাগ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা কেমন ছিল তা-ই উঠে এসেছে বইয়ে। তিনি অ্যাকাডেমিকভাবে উচ্চশিক্ষিত না হলেও তার মধ্যে যে মানবতাবোধ ও অসাম্প্রদায়িকবোধ ছিল সেটা যে কারও জন্য শিক্ষণীয়। এমন একটি চরিত্রের জন্য যেকোনো শিল্পী মুখিয়ে থাকবেন। আমি সৌভাগ্যবান যে পরিচালক আমাকে খুঁজে বের করে চরিত্রটি করার সুযোগ দিয়েছেন।
সম্প্রতি ‘পারফরমার’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন...
হ্যাঁ। আসমিয়া আফরিন মৌয়ের পরিচালনায় এ কাজটি নিয়েও আমি খুব আশাবাদী। ‘পারফরমার’-এ আমি একজন যৌনকর্মী। শ্যুটিংও করেছি দৌলতদিয়ার নিষিদ্ধপল্লীতে। এমনকি এই চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটি নিজের মধ্যে শতভাগ ধারণ করতে শ্যুটিংয়ের আগে গিয়ে সেখানকার যৌনকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। শ্যুটিং শেষে যৌনকর্মীদের নিয়ে আমার অনেক ধারণাই বদলে গেছে। তারা খুব সৎ, লুকানোর কিছু নেই। ব্যক্তিগত জীবনে খুবই নির্লিপ্ত। আমি সেই বিষয়টিই তুলে ধরেছি। পরিচালক মৌ এই শর্টফিল্মটি বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভালে নিয়ে যেতে চান। আশা করছি সবারই কাজটি ভালো লাগবে।
