পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার ঘোষণায় সূচকে বড় উত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে গতকাল সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা হওয়া ৮০ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। আর এতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ৭৯ পয়েন্ট। এর ফলে আট কার্যদিবস পর সূচকটি আবারো ৫ হাজার পয়েন্টে উঠে এসেছে। গতকাল সূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনেও অগ্রগতি দেখা গেছে। একদিনের ব্যবধানে ডিএসইতে কেনাবেচা বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ।
গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলার জারির মাধ্যমে জানায় যে, যেসব ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার নিচে রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে ট্রেজারি বন্ড বা বিল জামানত হিসেবে রাখতে হবে।
পুঁজিবাজারের বিদ্যমান তারল্য সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো এমন উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে অধিকাংশ ব্যাংকের বিনিয়োগ আইনি সীমার নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে তারল্য সংকটও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দেওয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট কাটাতে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
তারল্য সংকটের কারণে ২০১৮ সাল থেকে পুঁজিবাজারে মন্দা চলছে। পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় ধারাবাহিক দরপতনে গত পৌনে দুই বছরে ডিএসইর প্রধান সূচকটি প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছে। অধিকাংশ শেয়ারদর নেমে এসেছে বিনিয়োগসীমার অনুকূল অবস্থানে। এমন পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিশেষ করে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে পুঁজিবাজারে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৮০ শতাংশ শেয়ারের দর বেড়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৪ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৭৯ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। সূচক বাড়াতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) ও সাধারণ বীমা খাত। গতকাল ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সবকটির দর বেড়েছে। এছাড়া সাধারণ বীমা কোম্পানির দুটি ছাড়া সবগুলোর দর বেড়েছে। গতকাল ব্যাংক ৩ দশমিক ১৬, এনবিএফআই ৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও সাধারণ বীমা কোম্পানি খাতের বাজার মূলধন ৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া বস্ত্র ও খাদ্য খাতের শেয়ার দর গড়ে ২.২৫ শতাংশ করে বেড়েছে। এর বাইরে সিমেন্ট, সেবা ও নির্মাণ, প্রকৌশল ও সিরামিক খাতের বাজার মূলধনও বেড়েছে। বিপরীতে ট্যানারি, পাট, জীবন বীমা ও জ¦ালানি খাতের বাজার মূলধন কিছুটা কমেছে।
ডিএসইর লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর লেনদেনের শুরু থেকেই বাজারে তেজিভাব দেখা যায়। অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইএক্স সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ১১৫ পয়েন্ট বাড়তে দেখা যায়। এরপর বিক্রিচাপ বেড়ে যাওয়ায় সূচক বাড়ার গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে ৪ হাজার ৯৯৪ পয়েন্টে নেমে আসে। তবে শেষ ঘণ্টায় বিক্রিচাপ কিছুটা সহনীয় হয়ে আসায় সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার পয়েন্টে স্থির হয়।
এদিকে বাজারের তেজিভাবে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ায় লেনদেনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। লেনদেনে শীর্ষস্থানে ছিল ব্যাংক খাত। গতকাল এ খাতটিতে কেনাবেচা হয়েছে ৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা। ৬০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ফার্মাসিউটিক্যালস খাত। প্রকৌশল খাতে কেনাবেচা হয়েছে ৫৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। একক কোম্পানি হিসেবে সবচেয়ে বেশি কেনাবেচা হয়েছে গ্রামীণফোনে। গতকাল এ কোম্পানির ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া ন্যাশনাল টিউবস, সামিট পাওয়ার, ভিএফএস থ্রেড, ফরচুন সুজ, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও রেনেটায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লেনদেন হয়েছে।
গতকাল ডিএসইতে দরবৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, আইএফআইসি ব্যাংক, সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ভিএসএফ থ্রেড, মাইডাস ফাইন্যান্স, এমএল ডাইং ও তাকাফুল ইন্স্যুরেন্স।
অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো ন্যাশনাল পলিমার, ইউনাইটেড এয়ার, জেএমআই সিরিঞ্জ, ইয়াকিন পলিমার, ফরচুন সুজ, মুন্নু স্টাফলার, আলহাজ টেক্স, বিডি অটোকারস ও খান।
