বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে ৪৭টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বেশকিছু প্রকল্পের গতি ভালো নয়। এছাড়া সম্প্রতি নতুন কিছু প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বিশ^ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্পের গতি আনার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। এজন্য প্রকল্প পরিচালক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা, বিশ^ব্যাংকের প্রতিনিধিদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে ইআরডি। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে কোনো প্রকল্পের ছাড় বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকলে চিহ্নিত করা হবে। পরে প্রতিটি প্রকল্প নিয়েও আলাদা আলাদা বৈঠক করা হবে। উন্নয়ন সহযোগী এবং বাস্তবায়নকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিয়মিত বৈঠকের আয়োজন করা হবে। অন্যদিকে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবেও অর্থ ছাড় বিলম্বিত হয়। এ অবস্থায় বাস্তবায়ন কাজে গতি আনতে বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠকও করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইআরডি বিশ^ব্যাংক ইউংয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গত অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তার রেকর্ড অর্থ ছাড় হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ^ব্যাংকের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। চলতি অর্থবছর এ ধারা অব্যাহত রাখতে চায় ইআরডি। এজন্য বছরের শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পে বাস্তবায়নে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর দুর্বলতা থাকে। আবার অনেক প্রকল্পে কম্পোনেন্ট (অঙ্গ) সংশোধনের প্রয়োজন হয়, কিছু ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও সহযোগী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকে। এজন্য প্রকল্প পিডিদের কাছ থেকে চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়নের সমস্যা শুনবে ইআরডি। এরপর তা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইআরডি সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাইতে চলমান প্রকল্পে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ঋণ সহায়তা ছাড়ের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম মাসে ঋণ ও অনুদান মিলে ৩৯ কোটি ১১ লাখ ডলার ছাড় হয়েছে, যা গত অর্থবছরের জুলাইতে ছিল ১৮ কোটি ৭৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০ কোটি ৩২ লাখ ডলার বেশি ছাড় হয়েছে। বিশ^ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মেহরীন এ মাহবুব বলেন, সাধারণত সেøা মুভিং প্রকল্প নিয়ে পোর্টফোলিও সভা হয়ে থাকে। সভায় ওই প্রকল্পে বাস্তবায়নের সমস্যা ও গতি বাড়াতে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সেই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেন যথাসময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়। ইআরডি জানায়, চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিশ্রুত বৈদেশিক ঋণ-সহায়তার ৭৬৭ কোটি ডলার ছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। আর বিশ^ব্যাংক বাংলাদেশে অন্যতম সহযোগী সংস্থা। বিশ^ব্যাংকের অর্থ ছাড়ের পরিমাণ বাড়লে মোট অর্থ ছাড়ের পরিমাণ বাড়ে। বিশ^ব্যাংক ৪৭টি প্রকল্পের আওতায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থের সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইআরডি সচিব মো. মনোয়ার আহমেদ বলেন, উন্নয়নে বৈদেশিক সহায়তার হার বাড়ছে। কারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে আমানতের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বছরের শুরুতেই ছাড়ের পরিমাণ আরও বাড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
