আইনি প্রক্রিয়ায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, তাই রাজপথের আন্দোলনসংগ্রামের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিভাগীয় মহাসমাবেশ চলছে। বিভাগীয় সমাবেশ শেষে আন্দোলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শিগগিরই জ্যেষ্ঠ নেতারা জেলা সফর করবেন। গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেছেন বিএনপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমন্বয়ে একাধিক টিম গঠনের কাজ চলছে জেলা সফরের জন্য। এসব টিমে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্যরা থাকবেন। জেলা সফরে গিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন তারা। সংগঠনের হালহকিকত জানবেন। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
তিনি বলেন, চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবি চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। জনগণ সুযোগ পেলে বেগম জিয়ার মুক্তির পক্ষে ধানের শীষের প্রার্থীদের ভোট দিত। কিন্তু সরকার জনগণকে সে সুযোগ দেয়নি। সরকার রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এ দেশে অতীতে কোনো স্বৈরাচার টেকেনি, আগামীতেও টিকবে না। স্বৈরাচারকে
ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হবে।
বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে গত ১৮ জুলাই বরিশাল, ২০ জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫ জুলাই খুলনায় বিভাগীয় সমাবেশ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সিলেটে, ২৬ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহে ও ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। তবে গতকাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের বিভাগীয় সমাবেশের অনুমতি পাওয়া যায়নি। সমাবেশের অনুমতি চেয়ে গতকাল ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারের (এসপি) সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অনুমতি পাওয়া যাবে।
গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেন পুরান ঢাকার সরকারি মাদ্রাসা ই আলিয়া মাঠ প্রাঙ্গণে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক। ওই দিনই তাকে কারাগারে নেওয়া হয়। কারাগারে অসুস্থ হলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একাধিকবার ভর্তি করা হয়। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। দীর্ঘ এই সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে আইনি লড়াইও চালিয়ে যাচ্ছেন দলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৮ মাস ধরে আমরা চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সরকার বারবার তার জামিন বাধাগ্রস্ত করছে। এ কারণে বিএনপি এখন রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
বিএনপির দপ্তর সংশ্লিষ্ট নেতারা বলেছেন, জ্যেষ্ঠ নেতাদের জেলা সফরের তালিকার প্রস্তুতি চলছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্যদের সমন্বয়ে টিম গঠন করা হচ্ছে। এসব টিমে সাংগঠনিক সম্পাদকরাও থাকবেন। তবে কয়টি টিম গঠন করা হবে তা চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বেগম জিয়ার অসুখটা এমন যেটা ‘ইরিভার্সিবল ডিজিস’। যে ক্ষতিটা হবে তা আর কোনো চিকিৎসাতেই ফিরে আসবে না। তার শরীরের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি দেশনেত্রীর ওপর অনেক অত্যাচার করেছেন। এবার ক্ষান্ত দিন। মিথ্যা সাজানো প্রতিহিংসার মামলায় অনেক বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে দেশনেত্রীকে। এবার দ্রুত তাকে মুক্তি দিন।
