শুরুতর অসুস্থ বাংলাদেশের শুটিং ইতিহাসের অন্যতম সফল তারকা সাবরিনা সুলতানা। মেরুদণ্ডের সমস্যাজনিত রোগ নিউরোমাইলেটিস অপটিকাতে ভুগছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত এই ক্রীড়াবিদ। গত তিন মাস ধরে এই রোগে আক্রান্ত সাফ গেমস, সাফ শুটিং, কমনওয়েলথ শুটিংয়ের মতো আসরে দেশকে স্বর্ণ পদক উপহার দেওয়া এই তারকা।
শরীরের নিচের অংশ অবসর হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতে পারছেন না সাবরিনা। নিউরো চিকিৎসক ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কেরায়েশীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন আছেন ২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকে অংশ নেওয়া এই শুটার।
চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংককে যাওয়ার। তবে সে জন্য যে অর্থের প্রয়োজন, সেটি বহন করা সম্ভব নয় সাবরিনার পরিবারের পক্ষে। উল্লেখ্য, সাবরিনার স্বামী সাইফুল আলম রিংকিও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রাপ্ত শুটার ও অলিম্পিয়ান।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে সাবরিনা বললেন তার অসুস্থতা নিয়ে বিস্তারিত, ‘শুরুতে পিঠের ব্যথা ছিল বেশ কিছুদিন। ডাক্তার দেখানোর পর ব্যথা শেষ হয়ে যাওয়ায় সেভাবে আর গুরুত্ব দেইনি। কিন্তু তিন মাস আগে আবার হঠাৎ ব্যথা শুরু হয়। পায়ের অবস্থাও খুব খারাপ হলো, হাটতে পারি না। তখন ডাক্তার কেরায়েশীকে দেখাই। এমআরআই করানোর পর ধরা পড়ে সমস্যাটা।’
ডান পা ভারী হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে এখন হাটতে পারছেন না সাবরিনা। লাঠিতে ভর দিয়ে হাটতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক শুটিংয়ে এক সময় দেশের বড় এই বিজ্ঞাপনকে।
সাবরিনা বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিতে গেলে অনেক খরচ। ২০-৩০ লাখ টাকা লেগে যেতে পারে। এত টাকা আমি কোথায় পাব! বলতে গেলে আমার কাছে বড় ৫ লাখ টাকা আছে।’
ফেডারেশনের সহযোগিতায় অলিম্পিক থেকে ৫ লাখ টাকার সহায়তা মিলেছে। মঙ্গলবার সাবরিনার স্বামী রিংকির হাতে ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন বিওএ’র মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা।
প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার জন্যও আবেদন করেছেন সাবরিনা। শেষ ভরসা হিসেবে সাবরিনা তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকেই, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি এখন সহযোগিতা করেন…। তা ছাড়া আসলে কোনো উপায় নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তো অনেককেই সহযোগিতা করেছেন। আমি আশা করছি আমার দিকে তিনি তাকাবেন। কারণ বলতে গেলে আমার কিছুই নেই। ১৯৯৭ সালেও যখন সাফল্য (কমনওয়েলথ শুটিং) পেলাম তখনো আমাকে পুরস্কৃত করেছেন। অবশ্যই তিনি ব্যবস্থা করবেন আশা করি।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মেয়ে সাবরিনার জন্ম ১৯৭৫ সালে। শুটিংয়ে হাতেখড়ি ১৯৮৫ সালে। আর প্রতিযোগিতামূলক আসরে আবির্ভাব ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ গেমস দিয়ে। এরপর সাবরিনা ২১ বছরের শুটিং ক্যারিয়ারে আলোকিত করে গেছেন পুরো ক্রীড়াঙ্গনকেই। কমনওয়েলথ শুটিং, সাফ শুটিং, সাফ গেমস এবং ঘরোয়া প্রতিযোগিতা মিলে ৩০টির বেশি স্বর্ণ জয় করেছেন। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমস দিয়েই ইতি টানেন ক্যারিয়ারের। তবে অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্তও জড়িত ছিলেন কোচিংয়ের সঙ্গে।
