সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্থানের যুগে অনলাইনে নারীদের নিয়ে প্রশাসনের চিন্তা বাড়ছে। দেশের নারীরা কীভাবে অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তার একটি ধারণা পাওয়া গেছে মত প্রকাশের অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘আর্টিকেল নাইনটিন’র সভা থেকে।
বলা হচ্ছে নারীদের মধ্যে বেশিরভাগ যৌন হয়রানি, হ্যাকিং, সাইবার পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আর্টিকেল নাইনটিন’র সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মিশুক চাকমা পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে জানান, দেশের একমাত্র সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে যেসব হয়রানির অভিযোগ ও মামলা আসে সেগুলোর মধ্যে হ্যাকিং ২০ শতাংশ, ফেক আইডি ২০ শতাংশ, হয়রানি/মানহানি ১৮ শতাংশ, সাইবার পর্নোগ্রাফি ১৪ শতাংশ, মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা ১৪ শতাংশ, ব্ল্যাকমেইল/চাঁদাবাজি ৭ শতাংশ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ১ শতাংশ ও অন্যান্য ৬ শতাংশ।
আর রাজধানী ঢাকায় যেসব নারী অনলাইনে হয়রানির শিকার হন তাদের ৭০ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। ঢাকার বাইরের চিত্রও প্রায় একই রকম। তবে মফস্বলে অনলাইনে হয়রানির শিকার বেশিরভাগ ভুক্তভোগী থানায় যান না।
সাইবার অপরাধ তদন্তে নিজেদের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে পুলিশ কর্মকর্তা মিশুক চাকমা বলেন, মফস্বল পর্যায়ের থানা-পুলিশের সাইবার বিষয়ক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই। অনলাইন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্ত কীভাবে করতে হয় এ বিষয়ে বর্তমানে পুলিশের সব পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
‘অনেক অভিযোগের তদন্ত করতে ফেসবুকের কাছে তথ্য চাইলেও সহজে পাওয়া যায় না। এছাড়া দেশের বাইরে থেকে অনলাইনে যারা গুজব ছড়ায় ও অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের একার পক্ষে সাইবার অপরাধ মোকাবিলা সম্ভব নয়। এ জন্য পরিবার থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
অনলাইনে হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ জানাতে সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের ফেসবুক পেজ (https://www.facebook.com/cyberctdmp) এবং হেল্প ডেস্ক ০১৭৬৯৬৯১৫২২ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
