শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হলেন লাকী ইনাম

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:১২ পিএম

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান হিসেবে তিন বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করলেন নাট্যজন লাকী ইনাম। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন।

এর আগে ২০১৪ সাল থেকে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এ দায়িত্ব পালন করেন। এবার সেলিনা হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হলেন লাকী ইনাম।

বুধবার সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে লাকী ইনাম বলেন, ‘শিশু একাডেমির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সব রকম চেষ্টা করব। শিশুরা তো ফুলের মতো, পাখির মতো পবিত্র। তারা যেন সুস্থ সামাজিক, সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে। তার জন্য আমাদের সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। শিশুদের সঙ্গে আমার কাজ করতে ভালো লাগে। এ দায়িত্বের মধ্য দিয়ে সারা দেশের শিশুদের সঙ্গে থাকতে পারব, এটা আমার জন্য আনন্দের। চেষ্টা থাকবে, সারা দেশের স্কুলগুলোর সঙ্গে শিশু একাডেমির সম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর।’

লাকী ইনাম বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্ত। ১৯৭২ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের মাধ্যমে থিয়েটার জড়িত হন। এরপর দলটির বিভিন্ন নাট্যপ্রযোজনায় অভিনয় করেন। পরবর্তীতে নাগরিক নাট্যাঙ্গন নামে নিজেরা নতুন নাট্যদল গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই দলটির নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

একাধারে অভিনেত্রী, সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, নাট্যকার, নির্দেশক ও সংগঠক হিসেবে নাট্যাঙ্গনে তার খ্যাতি রয়েছে। মঞ্চে তার একক অভিনীত নাটক ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ প্রশংসিত হয়। এছাড়া ‘সেই সব দিনগুলো, প্রাগৈতিহাসিক, বিদেহ, মুক্তির উপায় ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য নির্দেশিত নাটক। মঞ্চ নাটকের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেও তারকাখ্যাতি পান তিনি। হুমায়ুন আহমেদের পরিচালনায় বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেইসহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন। টেলিভিশনের জন্য নাটক পরিচালনাও করেছেন তিনি।

সংস্কৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকার জন্য ২০১৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রবর্তিত ‘শিল্পকলা পদক ২০১৪’ অর্জন করেন। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক অর্জন করেন।

লাকী ইনামের জন্ম ১৯৫২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। বাবা-মা দুজনেই ছিলেন শিল্পের প্রতি অনুরাগী। আর তাই ছোটবেলাতেই শিখেছেন নাচ ও গান। পাশাপাশি শিখেছেন ভরত নাট্যম, কত্থক ও মণিপুরী নৃত্য। বাবা ছিলেন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা। বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলা কেটেছে বিভিন্ন জেলা শহরে। গুণী এই শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন। দাম্পত্য জীবনের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক তার স্বামী এবং দুই মেয়ে হৃদি হক ও প্রৈতি হক দেশের নাট্যাঙ্গনের পরিচিত মুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত