দীপিকা পাড়–কোন। বলিউড জয় করে হলিউডেও রয়েছে তার স্বাচ্ছন্দ্য পদচারণা। এখন একাধিক সিনেমার শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত এই তারকা। তার মধ্যে উড়ে এসেছে গর্ভবতী হওয়ার খবরও। এসব নিয়ে এ সপ্তাহে বিখ্যাত ফিল্মফেয়ার ম্যাগাজিনকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। পাঠকের জন্য তার চুম্বক অংশ তুলে ধরেছেন ইফতেখার শুভ
বলিউড থেকে হলিউড, সব জায়গায় আপনি সফল। পেছনে ফিরে দেখলে কেমন লাগে?
(নিজের পেছনে ফিরে ঠাট্টার ছলে) খুব ভালো। তবে আজ আমরা কোনো গসিপ করব না। নরমাল মানুষের মতোই কথাবার্তা চলবে।
সাধারণ মানুষ কিন্তু বেশি গসিপ করে!
আচ্ছা, তাহলে আমরা অ্যাব-নরমাল মানুষদের মতো গল্প করব। ঠিক আছে। তাহলে একটা গল্প শেয়ার করুন। যেটা এখনো মনে করলে একই সঙ্গে কষ্ট লাগে আবার খুশিও লাগে!
খুব কঠিন প্রশ্ন। আচ্ছা, একটা গল্প বলছি, তবে কার সঙ্গে বা কোন সিনেমার তা বলতে চাই না। সময়টা আরও তিন বছর আগের। তখন আমার ক্যারিয়ারের অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। কয়টি সিনেমা ফ্লপ করেছে। ‘ককটেল’ তখনো মুক্তি পায়নি। এই একটি সিনেমাই ছিল আমার হাতে, যা ছিল মুক্তির অপেক্ষায়। একটা বড় বাজেটের ভালো সিনেমা দরকার ছিল ক্যারিয়ারে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য। আমি প্রতিদিন ঈশ^রের কাছে একটি ভালো সিনেমার জন্য প্রার্থনা করতাম। এক দিন এক নামকরা পরিচালক ফোন করে আমাকে একটি সিনেমার অফার দেন। আমি তো খুশিতে আত্মহারা। সঙ্গে সঙ্গে তার অফিসে গিয়ে গল্প শুনি। আমার খুব ভালো লাগে। তখন পরিচালক জানান, এই সিনেমার নায়কের চরিত্র যিনি করবেন (বলিউডের একজন বড় সুপারস্টার) তিনি অন্য সিনেমার শ্যুটিংয়ে দেশের বাইরে আছেন। তিনি এলেই আমরা সিনেমার ঘোষণা দেব। আমি খুব আশ^স্ত হলাম। তবে চুক্তিপত্রে সই করিনি। কদিন অপেক্ষার পর সেই নায়ক দেশে ফিরলেন এবং পরিচালক বললেন তিনি আমার সঙ্গে সিনেমাটি করতে চান না। তার এক প্রিয় নায়িকাকে সিনেমাটিতে নিতে পরিচালককে চাপ দিচ্ছেন। সেদিন আমি আরও বেশি হতাশ হয়ে পড়ি। ডিপ্রেশনে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। ঠিক তখনই বন্ধু আয়ান মুখার্জি ‘অ্যায় যাওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি’ সিনেমার প্রস্তাব দেয় আমাকে। দুটি সিনেমাই কাছাকাছি সময়ে মুক্তি পায়। আমারটা সুপার ডুপার হিট করে আর সেই সিনেমাটি ফ্লপ হয়। এ ঘটনাটি মনে করলে আমার একই সঙ্গে দুঃখ ও আনন্দ হয়।
তার মানে বলিউডে কাস্টিংয়ের ক্ষেত্রে নায়কদের যে বিশাল ভূমিকা থাকে বলে গুঞ্জন রয়েছে, তা আসলেই সত্যি?
(হাসতে হাসতে), আমি জানতাম আপনি এখন এই প্রশ্নটিই আমাকে করবেন। যাই হোক, একটু-আধটু তো আছেই। তবে আমি কিন্তু এই একটি ঘটনা ছাড়া আর কখনো এমন পরিস্থিতির শিকার হইনি।
আপনি পলিটিক্যালি কারেক্ট উত্তর দিচ্ছেন...
(হাসতে হাসতে) একদম না। এটা সত্যি। আমার ক্ষেত্রে এমন হয়নি। এমনকি পুরো পরিবেশই বদলে যাচ্ছে। নায়িকাদেরও উচিত তেমন জায়গা করে নেওয়া, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আসার কোনো সুযোগই না থাকে। তাদের সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি আরও অনেক কিছু করার আছে। সিনেমায় নিজের জায়গাটুকু এমন করে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে দর্শক সবাই বুঝতে পারেন এই নায়িকা ছাড়া সিনেমাটি হতোই না।
এখন কী কী কাজ নিয়ে ব্যস্ততা চলছে?
এসিড সন্ত্রাসের শিকার লক্ষ্মী আগারওয়ালের বায়োটিক শেষ করেছি। এটি নির্মাণ করছেন মেঘনা গুলজার। সম্প্রতি কবির খানের ‘৮৩’ সিনেমার শ্যুটিং করলাম। এটি ভারতের প্রথম ক্রিকেট বিশ^কাপ জয়ের গল্প নিয়ে তৈরি হচ্ছে। রণবীর সিং করছেন তখনকার অধিনায়ক কপিল দেবের চরিত্রটি। আমি তার স্ত্রীর ভূমিকায় কাজ করেছি। তবে এতে আমি অতিথি চরিত্র করেছি।
স্বামী আছে বলেই কি অতিথি চরিত্র করেছেন?
(গম্ভীর হয়ে) একদম না। রণবীর আমাকে কোনো দিন এটা করতে বলেননি। কবির সিং আমাকে প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে আমি রাজি হওয়ার পেছনে বিশেষ কারণ রয়েছে। আপনারা সবাই জানেন, আমি (বাবা বিখ্যাত ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় প্রকাশ পাড়–কোন) একটি খেলোয়াড় পরিবারের সন্তান। আমি জানি, একজন খেলোয়াড়ের সাফল্যের পেছনে তার পরিবার বিশেষ করে তার স্ত্রীর ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইতিহাস তা মনে রাখে না। এ জন্য আমি কপিল দেবের স্ত্রীর চরিত্র করেছি, যাতে আমার জন্য হলেও দর্শক ওই চরিত্রের গুরুত্ব বুঝতে পারেন।
আপনি মা হচ্ছেন, এমন খবর নিশ্চয়ই চোখে পড়েছে...
(বিরক্তির ভঙ্গি) ওসব দেখে কী লাভ? কত মানুষ তো কত কিছুই বলে আমাদের নিয়ে। আমি এখন শুধু ক্যারিয়ার নিয়েই ভাবছি।’’
