আফগানিস্তানের কাছে ১-০ হার দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ১০ সেপ্টেম্বরের সেই ম্যাচ সাইড বেঞ্চে বসে দেখতে হয়েছিল মিডফিল্ডার মাসুক মিয়া জনিকে। দলের সঙ্গে ম্যাচ ভেন্যু তাজিকিস্তান গেলেও ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি। দেশে ফিরে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় তার এসিএল ছিঁড়ে গিয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে ভারতীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নন্দকুমার তার অপারেশন করেন। চিকিৎসক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পুরোপুরি সেরে উঠতে তাকে বিশ্রামে থাকতে হবে কমপক্ষে ৮ থেকে ৯ মাস। অর্থাৎ এই চোট বসুন্ধরা কিংসের এই মিডফিল্ডারকে জাতীয় দলসহ সব ধরনের ফুটবল থেকেই ছিটকে দিয়েছে। যা বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের ক্যাম্পে। দেশের মাটিতে শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষে ১০ অক্টোবর ম্যাচ এবং ১৫ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে শুরু হতে যাওয়া ক্যাম্পে তাকে বাদ দিয়ে খেলোয়াড় সংখ্যা ২৫ জন। ইংলিশ কোচ জেমি ডে দু’সপ্তাহের ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরে আজই দলের দায়িত্ব নেবেন, জানিয়েছেন দলের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু।
হাঁটুতে ব্যথা নিয়েই তাজিকিস্তান গিয়েছিলেন মাসুক মিয়া। এতবড় ইনজুরি যে হয়ে রয়েছে তা কল্পনাও করেননি তিনি, ‘এটা যে এত বড় ইনজুরি হয়ে যাবে, তা আমি ভাবতে পারিনি। তাজিকিস্তান রওনা হওয়ার আগের দিন প্র্যাকটিসে ব্যথা পাই ((ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের রাফ ট্যাকলে)। মনে হয়েছিল তখন কাফ মাসলের ইনজুরি, দৌড়াতে গেলে ওখানে একটু ব্যথা লাগত। দেশে ফেরার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেল, এসিএল ছিঁড়ে গেছে।’ তার ইনজুরি ভয়াবহতা ধরতে পারেননি জাতীয় দলের বিদেশি ফিজিও সাইমনও। দেশে ফেরার পর তার ইনজুরির খোঁজখবর সেভাবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি। তবে তার ক্লাব বসুন্ধরা কিংস তার চিকিৎসার ভার নিয়েছে। মাসুকের ইনজুরি নিয়ে বাফুফের অবহেলার নিন্দা করে কিংস প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান বলেন, ‘জাতীয় দলের ক্যাম্প চলাকালীন মাসুক ইনজুরিতে পড়েছে। তাকে সারিয়ে তোলার দায়িত্ব ফুটবল ফেডারেশনের। কিন্তু তাজিকিস্তান থেকে ফেরার পর কেউ তার খোঁজখবরও নেয়নি। আর সে জন্যই তাকে কাতার ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে রেখেছে।’
