সাভারে ওবায়দুল কাদের

ক্যাসিনোর জন্ম হাওয়া ভবনে

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:১৭ এএম

বাংলাদেশে ক্যাসিনোর জন্ম হাওয়া ভবনে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করেছেন, কিন্তু বিএনপি তা প্রবর্তন করেছে। তারা যা সূচনা করেছে, তা যে এখনো থাকবে তা নয়।

তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, আমরা নিয়েছি। খালেদা জিয়া পারেননি, শেখ হাসিনা পেরেছেন।’

ক্ষমতাসীনরা প্রতিটি ঘরকে ক্যাসিনো বা জুয়ার আসর বানিয়েছে বলে গত মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম মন্তব্য করেন। জবাবে গতকাল বুধবার সকালে সাভার সেনানিবাসের শুটিং ক্লাব পয়েন্টে নির্মিত আন্ডারপাসের উদ্বোধনকালে তিনি পাল্টা এই মন্তব্য করেন।

দেশে দুর্নীতি ও ক্যাসিনোবিরোধী চলমান অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের ধরা হচ্ছে তারা সত্যিকারের অপকর্মকারী। অপকর্মকারীরাই অভিযানের মূল টার্গেট। শুধু ঢাকাতেই এই অভিযান সীমাবদ্ধ নয়। সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেতুলিয়া- সারা বাংলায় যত দুর্নীতিবাজ আছে, মাদক ব্যবসায়ী আছে তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযান চলবে।

তিনি বলেন, শুরু হয়েছে শেখ হাসিনার অ্যাকশন। যতদিন মাদক, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে না পারব ততদিন অভিযান অব্যাহত থাকবে। এখানে চুনোপুঁটি আর রাঘব-বোয়ালের প্রশ্ন নয়, অনেককে দেখতে চুনোপুঁটি, কিন্তু তারা কাজ করে রাঘব-বোয়ালের মতো। আবার অনেককে দেখতে রাঘব-বোয়ালের মতো মনে হলেও দেখা যাবে সে হয়তো দুর্নীতি কিংবা অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তাই অনেককে বড় ভাবলেও তারা এত দুর্নীতি করেনি। এছাড়া অপরাধী যত বড়, আর যত ছোট হোক না কেন কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলনের সঙ্গে এই শুদ্ধি অভিযানের কোনো সম্পর্ক নেই। কোনো কোনো অপরাধের কারণে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ম্লান হচ্ছে। তাই গুটিকয়েক অপকর্মকারীর জন্য আমাদের সব উন্নয়নকে মøান হতে দিতে পারি না। আমাদের অভিযান লোক দেখানো নয়, দুর্নীতি-মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সহনশীল পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত চলবে।

এর আগে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত আন্ডারপাসের উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভসহ দেশের বিভিন্ন কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে নির্মিত কাজের প্রশংসা করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. আকবর হোসেন, চিফ ইঞ্জিনিয়ার মেজর জেনারেল ইবনে ফজল সায়েখুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান শেখ মো. শহীদুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মসিউর রহমান, কর্নেল এস এম আনোয়ার হোসেন ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাসহ অন্য ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক ব্যক্তিরা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্সের ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ২৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে চলতি বছরের ৩০ জুন প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত