বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পৌঁছেছে ইউজিসির পাঁচ সদস্যের তদন্ত দল। গতকাল বুধবার বিকেলে তদন্ত দলের প্রধান ড. মো. আলমগীর হোসেনসহ অন্যান্য সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছান। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে
বুধবার টানা সপ্তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেই কমিটির প্রধান কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তের জন্য এসেছি। শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবার সঙ্গে আমরা কথা বলব। বিশ্ববিদ্যালয়টি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য যা করণীয় তা করার জন্য এসেছি।’
তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন ইউজিসির সদস্য ড. সাজ্জাদ হোসেন, ড. দিল আফরোজ বেগম, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক কামাল হোসেন ও কমিটির সদস্য সচিব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপ-পরিচালক মৌলি আজাদ।
এদিকে অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে বুধবার টানা সপ্তম দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এদিন বেসরকারি টেলিভিশন যমুনাকে উপাচার্যের দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের সব অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন, ভর্তি ও নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনশন এবং অবস্থান কর্মসূচির সপ্তম দিন অতিবাহিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মিডিয়ায় দেওয়া ভিসির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
এদিন উপাচার্যের পদত্যাগের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ১১টায় ক্যাম্পাসের জয় বাংলা চত্বর থেকে ঝাড়– মিছিল শুরু হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনে এসে শেষ হয়।
ঝাড়– মিছিলে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ঝাড়– দিয়ে যেমন সব ময়লা আবর্জনা দূর করা হয়, তেমনি আমরাও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় আবর্জনা, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তের পদত্যাগের দাবিতে এই মিছিল করেছি।’
