ক্যাসিনো সরঞ্জাম আমদানিকারক ২০ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৮ এএম

মিথ্যা ঘোষণাসহ বিভিন্ন কৌশলে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম আমদানি করা ২০ প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর আগে প্রাথমিকভাবে পাঁচ আমদানিকারকের কথা জানায় সংস্থাটি। পরে আরও ১৫ আমদানিকারককে চিহ্নিত করে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সহিদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা গত ১০ বছরের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খুঁজে পেয়েছি। তারা কোনো আইনের লঙ্ঘন করেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ক্যাসিনো সরঞ্জাম আনার অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজের মালিক সুরঞ্জন শেঠ তাপসকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দার কার্যালয়ে বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন। এর আগে পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেত্রাবতি ট্রেডের মালিক মো. আশরাফুল ইসলামকে সোমবার জেরা করা হয়। ওই সময় তিনি বলেন, আইনকানুন অনুসরণ করেই আমদানিকারকদের পক্ষে যথাযথ শুল্ক-কর দিয়ে পণ্যগুলো ছাড় করেছেন। এতে কোনো অনিয়ম বা মিথ্যা ঘোষণা ছিল না। গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এই ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আহসানুল আজমকে।

শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, জুতা, কম্পিটার, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ কিংবা ফার্নিচারের আড়ালে আমদানি হয়েছে ক্যাসিনো সরঞ্জাম। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি নীতির সুযোগ নিয়ে রোলেট গেম টেবিল, পোকার গেম, ক্যাসিনো ওয়ার গেম টেবিল ইত্যাদি সরঞ্জাম আমদানি করা হয়েছে। ক্যাসিনো বা জুয়ায় ব্যবহৃত প্রতিটি মেশিন ও সরঞ্জামের দাম প্রায় ১ লাখ টাকা থেকে ৩ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কয়েক কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আসা চালানের তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত আমদানিকারকদের মধ্যে রয়েছে এ এম ইসলাম অ্যান্ড সন্স, ন্যানাথ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ, বি পেপার মিলস লিমিটেড ও এ থ্রি ট্রিড ইন্টারন্যাশনাল। ২০১৬ সালের ৭ ডিসেম্বর এ এম ইসলাম অ্যান্ড সন্স জুতার সরঞ্জাম ও মোবাইল যন্ত্রপাতির ঘোষণা দিয়ে ঢাকা কাস্টম হাউজ দিয়ে একটি বড় চালান ছাড় করায়। গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, ক্যাসিনো চিপস ও রেসিং কার আনা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা কাস্টম হাউজ দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে ন্যানাথ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটারের মাদার বোর্ডের নামে, এ থ্রি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল ২০১৭ সালের আগস্টে জন্মদিনের সরঞ্জামের নামে, ২০১৭ সালের জুলাই মাসে বি পেপার মিলস লিমিটেড ফার্নিচারের নামে রুলেট গেম টেবিল, পোকার গেম, ক্যাসিনো ওয়ার গেম টেবিল ইত্যাদি সরঞ্জাম আমদানি করে বলে প্রাথমিক তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা। তবে পুষ্পিতা এন্টারপ্রাইজ ক্যাসিনো সরঞ্জাম ঘোষণা দিয়েই পণ্য আমদানি করেছে। এসব আমদানিকারক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পণ্যগুলো আমদানি করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেছে বলে মনে করেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ক্যাসিনোর মেশিনসহ খেলার বেশিরভাগ সামগ্রী চীন থেকে আমদানি হয়েছে। রয়েছে অর্থ পাচারের তথ্যও। একই সঙ্গে ক্যাসিনোতে জুয়ায় টাকা লগ্নিকারী ব্যক্তিদের আয়কর ফাইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে আরও কিছু আমদানিকারককে জিজ্ঞাসাবাদ করবে শুল্ক গোয়েন্দা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত