জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সানোয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ওই বিভাগেরই এক ছাত্রী। ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বরাবর মাস্টার্সের ওই ছাত্রী এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। তিনি গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে অভিযোগটি পাঠান। এদিকে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে এবং ন্যায্যবিচার পাবেন না এমন হতাশায় ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিভাগে তার নির্ধারিত কক্ষটিও তালাবদ্ধ ছিল।
অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী বলেছেন, ‘ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় বর্ষে সানোয়ার সিরাজের কোর্সে কম মার্কস পাই। আমি ওই কোর্স মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে চাই। আর এ জন্যই আমি স্যারের শরণাপন্ন হই। এ সময় তিনি আমার মোবাইল নম্বর নিয়ে রাখেন। তিনি আমাকে বলেন, যেকোনো কারণে যেন যোগাযোগ করি। গত বছরের ১২ মার্চ তিনি ফোন দিয়ে পরীক্ষা কেমন হলো জানতে চান। এরপর ওই রাতেই আবারও ফেইসবুক মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেন এবং আমার সঙ্গে ঘোরাফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। হঠাৎ তার এ ধরনের আচরণে আমি বিস্মিত হই। পরে আমি বিভাগে গিয়ে তার কাছে জানার চেষ্টা করি যে তার ফেইসবুক আইডি হ্যাক হয়েছিল কি না। কিন্তু তিনি নিশ্চিত করেন যে আইডি হ্যাক নয়; বরং তিনিই এই মেসেজ দিয়েছেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রতি তিনি তীব্র শারীরিক আকর্ষণ বোধ করেন, আমার সঙ্গে সময় কাটাতে চান, ঘুরতে চান। আমি তার এমন আচরণে খুব বিব্রত ছিলাম, ফলে বারবার ফেইসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভ করছিলাম। কিন্তু তিনি রেগুলার আমাকে উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছিলেন। পরে তিনি একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া এবং স্ত্রীর অনুপস্থিতে তার বাসায় রাত যাপনের প্রস্তাব দেন। তার ধারাবাহিক অত্যাচারে মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং একাধিক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হই।’
ওই ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে ২৬টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এর কারণ হিসেবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মহিলা পরিষদের একটি অনুষ্ঠানে আমি হয়রানির কথা জানাই। এতে বিভাগের সদ্য সাবেক সভাপতি খন্দকার শামসুন্নাহার আমাকে হুমকি দেন। বলেন, প্রমাণ না দেখাতে পারলে আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবেন। আমি পরে তার সঙ্গে কিছু বিষয় শেয়ার করি। মেসেঞ্জারের হয়রানিমূলক মেসেজগুলো দেখাই। পরে তিনি সহানুভূতি জানান এবং এসব ভুলে গিয়ে ক্যারিয়ারের দিকে নজর দিতে বলেন। অন্য শিক্ষকদের জানিয়েও আমি এ ব্যাপারে কোনো সহযোগিতা পাইনি। আমি আসলে আর লড়াই করতে পারছিলাম না।’
অভিযোগের ব্যাপারে খন্দকার শামসুন্নাহার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যা বলছে তা বানিয়ে বলছে। এসব মিথ্যা ও বানোয়াট।’ বিভাগের বর্তমান সভাপতি বলেন, ‘১৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রটি পেয়েছি। কিন্তু তার কিছু প্রমাণপত্র আমাকে দেওয়ার কথা ছিল। বুধবার অভিযোগপত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে হস্তান্তর করি।’ যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলের প্রধান অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্যের সুযোগ নেই।’
