বশেমুরবিপ্রবিতে আন্দোলন

ইউজিসি অনেক কিছু জেনেছে

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:১২ এএম

উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনের অষ্টম দিনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ জানান তারা। ওইদিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির এক সহকারী প্রক্টর। আর ক্যাম্পাস পরিদর্শনে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত দল জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে, ইউজিসি চেয়ারম্যান পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। 

গতকাল বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার আগে ইউজিসি তদন্ত দলের প্রধান কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর আমরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন, তাদেরও সময় দিয়েছি। বিষয়টি আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়েছে। অনেক কিছু জেনেছি। আমাদের চেয়ারম্যান মহোদয়কে বিষয়টি জানাব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত  নেবেন। আমরা আশা করি, এমন একটি সিদ্ধান্ত হবে যাতে অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ফিরে আসতে পারে।’

এদিকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল টানা অষ্টম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জয় বাংলা চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিতভাবে শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের এই সুষ্ঠু আমরণ অনশন এবং অবস্থান কর্মসূচি কুচক্রী মহল ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। একটি বিশেষ মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাম এবং ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ফেক আইডি খুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের নামে বিভিন্ন আপত্তিজনক কথা ছড়িয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর তার দায়ভার দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও প্রশাসন কর্র্তৃক দায়িত্বে অবহেলার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সহকারী প্রক্টর ড. মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

তরিকুল ইসলাম বলেন, একজন সহকারী প্রক্টর হিসেবে আমার সমতুল্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও প্রশাসন কর্র্তৃক দায়িত্বে অবহেলার প্রতিবাদে প্রশাসনিক সব দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছি।

এর আগে গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গত বুধবার রাতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে আরেক সহকারী প্রক্টর ড. মো. নাজমুল হক পদত্যাগ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত