২০৩০ সালের মধ্যে এ দেশের জনগণ শতভাগ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর একটাই মোহÑ দেশের সব পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করা। বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারবে না। ২০৪১ সালের মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২০তম দেশের মধ্যে।
গতকাল শনিবার জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজক। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামালউদ্দিন আহমেদ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রায়ই আমাকে বলেন এদেশের বেদে, কামার-কুমার, তাঁতি, কৃষক, শ্রমিকÑ প্রত্যেক পরিবারের যেন অন্তত একজনের চাকরি হয়, সে ব্যবস্থা করে দাও। আমি বিশ্বাস করি, ২০৩০ সালের মধ্যে এ দেশের জনগণ শতভাগ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের দারিদ্র্যসীমার হার ২১ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে এটাকে আমরা শূন্য বা ৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে চাই। ২০৩০ সালে এদেশে কোনো দরিদ্র থাকবে না।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর ওপর গ্রেনেড হামলা হলো। ভিডিওচিত্রটি যদি দেখেন তাহলে বুঝবেন স্বয়ং আল্লাহ নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করেছেন। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী যাতে দেশের মানুষকে আরও বেশি সেবা দিতে পারেন, সেই জন্য তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন আল্লাহ নিজেই।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে আমরা পৃথিবীর সবার ওপরেÑ এটা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের তথ্য। ২০২৭ সালের মধ্যে পৃথিবীর ২৬তম দেশ হবে বাংলাদেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এসব দেশের ওপর থাকবে বাংলাদেশ।
নিজের শিক্ষা জীবনের স্মৃতিচারণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্জন ধরে রাখতে তরুণ সমাজকে মন দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। আপনারা আমাকে অনুসরণ করতে পারেন। আমার জীবনের গল্প আপনাদের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে। বেতন না দিতে পারার কারণে স্কুলে আমার তিনবার নাম কাটা গেছে। গ্রামের মানুষ আমার বেতন দিয়েছেন। এসএসসির ফরম ফিলাপের টাকা ছিল না। শেষ দিন আমার এলাকার একজন আমাকে টাকা দেন। আমি লজিং থেকে লেখাপড়া করেছি, টিউশনি করেছি। আমি টিউশনি করে ও লজিং থেকে লেখাপড়া করে অর্থমন্ত্রী হতে পারলে তোমরা কেন পারবে না; তোমরা আরও বড় বড় দায়িত্ব পালন করতে পারবে। আমরা যেখানে রেখে যাব, তোমরা সেখান থেকে শুরু করবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। উন্নয়নের রেলগাড়ি লাইনে চলছে, তোমরাই তা অব্যাহত রাখবে। তোমরা জাতির পিতা ও শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের মাধ্যমে প্রতি বছর ২০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়া হবে। যাতে এ মেধাবীরা আইটিতে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। একই অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, তার মন্ত্রণালয় থেকে প্রতি বছর ২০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে একটি করে ল্যাপটপ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
