জাতিসংঘে ইমরান খান

পাক-ভারত যুদ্ধ হলে সারা বিশ্বকে ভুগতে হবে

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:১৮ এএম

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গত শুক্রবার ভাষণ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তার পঞ্চাশ মিনিটের ভাষণের অর্ধেক জুড়েই ভারত ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ জায়গা পায় বলে জানিয়েছে ইকোনমিক টাইমস। ভাষণে ইমরান খান ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হলে তার ফল পুরো বিশ্বকে ভুগতে হবে বলে সতর্ক করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণের পরই ভাষণ দেন ইমরান।

ভাষণ শুরুর পরই তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর সংকট সমাধান জাতিসংঘের জন্য একটি পরীক্ষা। যদি যুদ্ধ শুরু হয়েই যায় তবে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। কিন্তু ভাবুন, একটি দেশকে যখন তার চেয়ে সাত গুণ বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে বাছতে হয়; আত্মসমর্পণ করো অথবা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নিজের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করো। আমরা কী করব? আমি নিজেকেও একই প্রশ্ন করেছি। আমার বিশ্বাস এক ঈশ্বর ছাড়া আর কেউ নেই এবং আমরা লড়াই করব।’

এসময় ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরএসএস নামে যে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের আজীবন সদস্য। সেই সংগঠনের ‘আদর্শ হচ্ছে হিটলার এবং মুসোলিনি’ এবং ঐ আরএসএস-ই মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল।”

আবেগঘন বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘৮০ লাখ কাশ্মীরিকে পাহারা দিয়ে রেখেছে ৯ লাখ ভারতীয় সেনাবাহিনী। কারফিউ উঠে গেলে কী হবে? কাশ্মীরিরা কি চুপচাপ তাদের মর্যাদার এই পরিবর্তন মেনে নেবে? কারফিউ উঠে গেলে যা হবে তা হচ্ছে, রক্তবন্যা বয়ে যাবে। মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে। আর সেনারা কী করবে? তারা তাদের দিকে গুলি ছুড়বে। আরও মৌলবাদের দিকে ঝুঁকবে কাশ্মীরিরা। আমার একথা ভুল হলে সর্বোত্তম কিছু ঘটার আশা করা যায়। কিন্তু সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্যও তৈরি থাকতে হবে।’

ভাষণে পাকিস্তানে কোনো জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব নেই বলেও দাবি করেন ইমরান খান। যদিও তার আগে দেওয়া ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে বলেন, মানবিকতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ যা করছে, বিশ্বজুড়ে তা নিয়ে আরও ক্ষোভের সঞ্চার হওয়ার প্রয়োজন।

ইমরান খানের ভাষণের জবাব দিয়েছে ভারত। জাতিসংঘে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফার্স্ট সেক্রেটারি বিদিশা মৈত্র বলেন, ‘ইমরান বোকার মতো সব কিছুর মধ্যে আমরা-ওরা বিভাজন করছেন। তিনি জাতিসংঘে ধনী বনাম গরিব, উত্তর বনাম দক্ষিণ, উন্নত বনাম উন্নয়নশীল, মুসলিম বনাম অন্যদের মধ্যে বিভাজন করতে চান। এভাবে তিনি ঘৃণা প্রচার করছেন। তার পুরো ভাষণে অপরকে ঘৃণা করার মানসিকতা দেখা যায়।’

ভারতীয় এই কূটনীতিক আরও বলেন, ‘পাকিস্তানকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। পাকিস্তান কি এটা নিশ্চিত করবে যে তাদের মাটিতে ২৫টি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন এবং ১৩০ জন ‘সন্ত্রাসী’ রয়েছে যারা জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত। পাকিস্তান যে বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কিত লোকজনকে অবসরভাতা দেয়; তা কি তারা অস্বীকার করবে? পাকিস্তান কি ব্যাখ্যা দেবে কেন তাদের হাবিব ব্যাংকের অপারেশন নিউইয়র্কে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল? সন্ত্রাসী তৎপরতায় লাখ লাখ ডলার পাচারের জন্যই কি তা করা হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কি নিউ ইয়র্কে দাঁড়িয়ে অস্বীকার করতে পারবেন যে তিনি ওসামা বিন লাদেনকে খোলাখুলি সমর্থন করে আসছেন?’

এদিকে গতকাল শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক অবস্থা আরও অস্থির হয়ে ওঠে। শনিবার দিনভর অঞ্চলটিতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক স্থানে অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয় অন্তত তিন বিদ্রোহী। বিদ্রোহীদের গুলিতে ভারতীয় বাহিনীর এক সদস্যও নিহত হয়েছে।

শনিবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরে দুইটি এনকাউন্টার এবং একটি গ্রেনেড হামলার খবর পাওয়া যায়। রামবান জেলার বাটোতে ভারতের সামরিক পোশাক পরিহিত দুই বিদ্রোহী জঙ্গি জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস থামানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে চালক বাসের গতি বাড়িয়ে তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী গিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত