পারিবারিক কলহের জের

গৃহবধূর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৩৫ এএম

মাদারীপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে এক গৃহবধূর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের উকিলবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পরিবারের অভিযোগ, রাজু হাওলাদারের (৩০) চাচাতো ভাই জহিরুল হাওলাদারের (৩৫) লোকেরা বাড়িতে হামলা চালালে গৃহবধূ জিতু আক্তার (২৫) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক সিজারের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করান। তবে জহির হাওলাদার এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের উকিলবাড়ি এলাকায় শাজাহান হাওলাদারের ছেলে রাজু হাওলাদার চাচাতো ভাই জহিরুল হাওলাদারের কাছে একটি মোটরসাইকেল বন্ধক রেখে লাভ দেওয়ার শর্তে টাকা নেন। কিছুদিন পরে রাজু বন্ধকের মূল টাকা পরিশোধ করে মোটরসাইকেল ফেরত নেন। বাড়তি টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে

শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জহির হাওলাদার লোকজন নিয়ে রাজুর বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালান। এতে রাজুর মা সাফিয়া বেগম (৫৩), অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী জিতু আক্তার, ছোট ভাই জসিম হাওলাদার (২৪) ও নাছিম হাওলাদার (২০) আহত হন। সাফিয়া বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জসিম ও নাছিম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গুরুতর আহত জিতু আক্তারকে রাতেই প্রত্যাশা নামে শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নেওয়া হলে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে মৃত সন্তান প্রসব করানো হয়। ক্লিনিকের ডা. এলিজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিতু আক্তারকে রাতে আহত অবস্থায় আনা হয়। তার তলপেট ও দেহে আঘাতের চিহ্ন ছিল। আল্ট্রাসনোগ্রামে গর্ভের সন্তানের নড়াচড়া দেখতে না পাওয়ায় সিজার অপারেশন করা হয়। ওই গৃহবধূ মৃত সন্তান প্রসব করেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘গৃহবধূর আরও এক সপ্তাহ পর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ছিল। পেটে গুরুতর আঘাতের কারণেই গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বামী রাজু হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাচাতো ভাই জহিরের কাছে মোটরসাইকেল রেখে টাকা ধার নেই। আমি মূল টাকা দিয়েছি। লাভের টাকা দেয়নি বলে রাতে লোকজন নিয়ে বাড়িতে হামলা করেছে। তারা আমার স্ত্রীকে প্রথমে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে মাটিতে ফেলে লাথি দেয়। হামলার কারণেই আমার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিচাই।’
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জিতু আক্তার গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাতে বাড়িতে শাশুড়ি, দুই দেবর ও আমি ছিলাম। হঠাৎ করেই হামলা শুরু করে। আমি তাদের থামাতে গেলে কেউ একজন ঘাড়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর আমার আর কিছু মনে নেই। পরে টের পেলাম আমি হাসপাতালে ভর্তি।’
রাজু হাওলাদার আরও জানান, ঘটনার দিনও জিতুকে চিকিৎসক দেখিয়েছি। আগামী ৪ অক্টোবর সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়েছিল। তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। সন্তানের বিষয়টি জিতুকে এখনো জানানো হয়নি। একটু অসুস্থ থাকায় অন্যত্র চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে সান্ত্বনা দিয়ে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে জহির হাওলাদার গতকাল সন্ধ্যায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কাউকে আঘাত করিনি। রাজু ভাড়াটে এনে আমার ৬ জনকে পিটিয়ে আহত করেছে।’ গৃহবধূর শরীরে আঘাতের চিহ্নের কথা জানানো হলে তিনি বলেন, ‘রাজু আমাকে মারার জন্য ঘর থেকে বের হতে গেলে তার স্ত্রী থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় দরজার চৌকাঠে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় জিতু।’

এদিকে গতকাল সকালে তার বাড়িতে গিয়ে তালা দেওয়া পাওয়া যায়। এ সময় স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পরপরই পরিবারের সবাই ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা জানান, ঘটনা শোনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। নিজে সদর হাসপাতালে ও প্রত্যাশা ক্লিনিকে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছি। পারিবারিক দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটেছে। আঘাতের কারণেই জিতু মৃত সন্তাব প্রসব করেছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। মামলার পরই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত