টিআইবির বিবৃতি

চাপে পরিবহন আইন সংশোধন চেষ্টা আত্মঘাতী

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:০৭ এএম

বাস্তবায়নের আগেই ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ সংশোধন চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তারা বলছে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের চাপে সাজার মেয়াদ কমানোসহ আইনে জনস্বার্থবিরোধী অনেক সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকারÑ যা উচ্চ আদালতের অবমাননা ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপন্থী। পুরো বিষয়টি অন্যায্য ও আত্মঘাতী

উল্লেখ করে সেখান থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনটি। গতকাল শনিবার টিআইবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়। গত বছর নিরাপদ সড়ক চেয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাস করে সরকার। একই বছরের ৮ অক্টোবর এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। আইনটি নিয়ে মালিক-শ্রমিকদের অসন্তোষ থাকায় এখনো সেটি কার্যকর করা হয়নি বলে দাবি করে আসছেন সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। এরই মধ্যে গত ২৫ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইন যখন করা হয়, তখন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কিছু দাবি-দাওয়া ছিল। সেই দাবি-দাওয়া সম্পূর্ণভাবে আইনে আসেনি। সেজন্য এ আইন প্রয়োগের কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে সেটা আমরা দেখার জন্য বসেছি।’ এ সময় আইনটি সংশোধন হবে বলেও ইঙ্গিত দেন কামাল।

গণমাধ্যেম প্রকাশিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে বিবৃতি পাঠায় টিআইবি। এতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের অযৌক্তিক দাবি ও চাপের কাছে সরকার যদি নতি স্বীকার করে তা হবে আদালত অবমাননা ও জনস্বার্থের পরিপন্থী। বিশেষ করে সড়ক পরিবহন আইন ভঙ্গের জন্য সাজার মেয়াদ কমানোর দাবিটি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া আইনের সব ধারা জামিনযোগ্য করাসহ অর্থদণ্ড কমানো ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি করা- এসব দাবি সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় সুশাসন, ন্যায়বিচার, জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কোনোভাবেই সহায়ক হবে না।’ 

তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশগুলোর আইনের সঙ্গে তুলনামূলক সামঞ্জস্যের যুক্তির কথা বলা হলেও চাপে আইনটি দুর্বল করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। স্বার্থের সংঘাতে জর্জরিত জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদই ষড়যন্ত্রের কাছে নতজানু হয়ে আছে। পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে তরুণ শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে সরকার আইনটি পাস করলেও তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে মালিক-শ্রমিক পক্ষ আইনটির বিরোধিতা করে তা বাতিলের দাবিতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের দাবির মুখে এখন আইনটির উল্লিখিত পরিবর্তন এ খাতে নৈরাজ্য নিরসনে নেওয়া সব অগ্রগতিকেই হুমকির মুখে ফেলবে। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে এ ধরনের নতি স্বীকার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।’ সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ছয় দফা নীতি বাস্তবায়নের দাবি জানান ইফতেখারুজ্জামান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত