সারা দেশে ৩১ হাজার মণ্ডপে দুর্গাপূজা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:০৮ এএম

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব দুর্গাপূজা সারা দেশে ৩১ হাজার ১০০ সার্বজনীন ও পারিবারিক পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর রাজধানীতে পূজা হবে ২৩৭টির বেশি মণ্ডপে। গতবারের চেয়ে এবার প্রায় ১ হাজার স্থানে পূজা বেড়েছে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা এ তথ্য জানান।

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, মিরপুর, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পূজার প্রস্তুতি চলছে সমারোহে। এরই মধ্যে প্রতিমা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তুলির আঁচড় দিচ্ছেন প্রতিমাশিল্পীরা। আয়োজকরা ব্যস্ত মণ্ডপের সাজ ও আয়োজন নিয়ে, চলছে প্রতিযোগিতাও।

শাঁখারীবাজারে চার বছর ধরে পূজার প্রতিমা নির্মাণ করেন সুজন পাল। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের বাসিন্দা এই প্রতিমাশিল্পী জানান, কয়েক দিন ধরে প্রায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। ষষ্ঠী পূজা পর্যন্ত এ অবস্থা চলবে। প্রতিমায় মাটির প্রলেপ ও কারুকার্যের কাজ শেষ। চলছে রঙের কাজ। আয়োজকদেরও তাড়া আছে দ্রুত কাজের। আবার প্রতিমাকে আকর্ষণীয়ও করে তুলতে হবে।

জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে বরাবরের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণ পূজার প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউর পাশে খেলার মাঠে জমজমাট ও চোখ ধাঁধানো পরিবেশে পূজার আয়োজন করেছে বনানী-গুলশান সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন। ফার্মগেট খামারবাড়ি, রমনা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, কলাবাগান মাঠেও থাকছে পূজার বিপুল আয়োজন। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল দেশ রূপান্তরকে জানান, ষষ্ঠীর দিন দেবীর বোধন ও পূজার্চনার মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। জাতীয় মন্দির হিসেবে ঢাকেশ্বরীর পূজার একটা আলাদা আবেদন থাকে। ষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী ও মহানবমীতে পূজার্চনার পাশাপাশি দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, আলোচনা সভা, আরতিসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজায় প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের ঢল নামে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি বলেন, ‘এবার রাজধানীসহ সারা দেশে ৩১ হাজার ১০০ স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিগত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ১ হাজার পূজাম-প বেড়েছে। সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। তবে এর মধ্যেও দেশের কোনো কোনো জেলায় প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা দুঃখজনক।’ তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা আশ্বস্ত করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্ব স্ব পূজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবক দল নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভাল করবে। আশা করি আনন্দঘন পরিবেশে পূজার্চনা হবে।

পরিষদের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ বলেন, যেকোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই শিক্ষা ও উৎসব থাকে। উৎসব এখন সার্বজনীনতা পেয়েছে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত