প্রত্যাহারের সুপারিশের পর ভিসির ক্যাম্পাস ত্যাগ

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৫৯ এএম

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) খোন্দকার নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। একই সঙ্গে ওই ভিসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, খোন্দকার নাসির উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার যোগ্য নন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে            

  গঠিত ইউজিসির এক তদন্ত কমিটি গতকাল রবিবার এই সুপারিশ করেছে। এদিকে গতকাল রাত ৯টার দিকে ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিন পুলিশ প্রহরায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন আমাদের প্রতিনিধি ।

এদিকে গতকাল আন্দোলনের দশম দিনে উপাচার্যের ভাড়াটিয়াবাহিনীর হামলায় আহতদের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর নিকট দোয়া চেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে গত ১২ সেপ্টেম্বর উপাচার্য নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বহিষ্কার করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সেই বহিষ্কারাদেশ তুলে নেন উপাচার্য। কিন্তু নানা অভিযোগে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ওপর বহিরাগতদের দিয়ে হামলা করানোর অভিযোগ ওঠে উপাচার্যের বিরুদ্ধে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি ভিন্নদিকে মোড় নিতে শুরু করে। উপাচার্যকে প্রত্যাহারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামেন। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলমগীরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর গত ২৫ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে যায়। পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে দুদিন অবস্থান করে এবং ২৭ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) ঢাকা ফিরে এসে ওই দিনই তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ইউজিসির কাছে জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনটি গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভিসি খোন্দকার নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় যোগ্য নন, তাই তাকে ভিসি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় সেসব বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শেষ করেছি। যেহেতু ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেÑ এসব বিষয় বিবেচনা করে আমরা দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়েছে বর্তমান ভিসি (খোন্দকার নাসির উদ্দিন) একজন দায়িত্বহীন, দুর্নীতিবাজ, অনিয়মকারী ও নৈতিকস্খলনজনিত অপরাধ করেছেন।

এদিকে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন জানান, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং সচিব সোহরাব হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গতকাল রাত পর্যন্ত সিলেটে অবস্থান করায় তারা প্রতিবেদনটি হাতে পাননি। তিনি নিজেও সিলেটে অবস্থান করছেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি ইউজিসি প্রত্যাহারের সুপারিশ করে থাকে, তা হলে আমরা সেটা নিয়োগকারী কর্র্তৃপক্ষের (বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য) কাছে পাঠিয়ে দেব। তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা বাস্তবায়ন করব।

 এদিকে রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কালো দিন ছিল। সেদিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ভিসির পেটোয়াবাহিনী হামলা চালায়। সেই ঘটনায় আহতদের অনেকেই এখনো হাসপাতালে। এ সময় তারা আহতদের জন্য দেশবাসীর দোয়া চান। 

দুপুর ১২টায় শিক্ষার্থীরা ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে উপাচার্যের দুর্নীতি তুলে ধরেন। পরবর্তী সময়ে বিকেল ৫টায় ‘আমার চোখে ভিসি’ শিরোনামে একটি চিত্রাঙ্কন কর্মসূচি আয়োজন করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্নরূপে উপাচার্যকে অঙ্কন করেছেন। আইন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি উপাচার্যকে অঙ্কন করেছেন একটি সাপ হিসেবে। তার ভাষ্য, উপাচার্য একটি বিষাক্ত সাপের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রাস করেছেন। তাই তাকে সাপ হিসেবে অঙ্কন করেছেন তিনি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত