বই কেনার নামে ২ কোটি টাকা অগ্রিম ব্যয়

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০১ এএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই নতুন এক অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বই কেনার জন্য

জাহাজ নির্মাণশিল্পের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘খুলনা শিপইয়ার্ড’কে অগ্রিম দুই কোটি টাকা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো বই লাইব্রেরিতে আসেনি।

ভর্তি-বাণিজ্য, প্রকল্পে দুর্নীতি ও নিয়োগে অনিয়মসহ নানা অভিযোগে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।

বই কেনার নামে দুই কোটি টাকা অগ্রিম ব্যয় প্রসঙ্গে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল কুদ্দুস মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে খুলনা শিপইয়ার্ডকে এই টাকা দেওয়া হয়। জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে কেন বই কেনার দায়িত্ব দেওয়া হলো এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমন চুক্তি করা যায়। খুলনা শিপইয়ার্ড সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের সঙ্গে চুক্তিটি করা হয়েছে।’ তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে পরে চুক্তিটি বাতিল ও তাদের টাকা ফেরত দিতে বলা হয় বলেও জানান এই কর্মকর্তা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি এখনো টাকা ফেরত দেয়নি।

তবে পণ্য বুঝে পাওয়ার আগেই পুরো বিল আগাম পরিশোধ নিয়ে পাওয়া গেছে ভিন্নমত। তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক কুদ্দুস মিয়া বলেন, ‘ডিপিএম (ডাইরেক্ট পারচেজ মেথডস) প্রক্রিয়ায় এভাবে অগ্রিম টাকা দেওয়া যায়।’ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মশিকুর রহমান বলেন, ‘এভাবে অগ্রিম টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু উপাচার্যসহ প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশ থাকায় আমরা খুলনা শিপইয়ার্ডকে বই কেনার জন্য অগ্রিম দুই কোটি টাকা প্রদান করি।’

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা আমার দপ্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয় নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, লাইব্রেরিতে কোনো বিভাগেরই পর্যাপ্ত বই নেই। অথচ কোটি কোটি টাকা এভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যয় করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত