বাংলাদেশেও রেনিটিডিন বিক্রি নিষিদ্ধ

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:০৩ এএম

ক্যানসার সৃষ্টির উপাদান পাওয়া গ্যাসট্রিক ও পেটের পীড়ার নানা উপসর্গের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রেনিটিডিনের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এখন বিভিন্ন কোম্পানির রেনিটিডিনের যেসব ওষুধ বাজারে রয়েছে, কোম্পানিগুলো নিজ উদ্যোগে সেগুলো প্রত্যাহার করে নেবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গতকাল রবিবার ওষুধশিল্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান। ওষুধশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির মহাসচিব মো. হারুনুর রশিদও একই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রেনিটিডিনে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত তা নিষিদ্ধ করে বাজার থেকে তুলে নিয়েছে। আরও কয়েকটি দেশ এ বিষয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৫ শতাংশ রোগী এই গ্রুপের ওষুধ সেবন করেন।
মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির নেতাদের সঙ্গে

ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সেখানে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ৩১টি ওষুধ কোম্পানি ভারতের ফারাক্কা নামক একটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিন ট্যাবলেটের কাঁচামাল আমদানি করে। ডক্টর রেড্ডি নামক আরেকটি কোম্পানির কাঁচামাল আমদানির জন্য কালো তালিকাভুক্ত থাকায় সেখান থেকে এখনো আমদানি করা হয়নি। জনস্বার্থ বিবেচনায় এ দুটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিনের কাঁচামাল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ওই কোম্পানি থেকে আমদানি করা কাঁচামাল দিয়ে নতুন করে রেনিটিডিন উৎপাদন করা যাবে না। শুধু তা-ই নয়, বাজার থেকে কোম্পানিগুলো স্ব-উদ্যোগে রেনিটিডিন ট্যাবলেট প্রত্যাহার করে নেবে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির নেতারা জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে স্বপ্রণোদিতভাবে বাজার থেকে রেনিটিডিন প্রত্যাহার, নতুন করে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদন না করার ব্যাপারে সর্বসম্মত হন। আর রেনিটিডিন কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িক। কোম্পানিগুলো বাজার থেকে রেনিটিডিন নমুনা সংগ্রহ করে নিজস্ব ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখবে তাতে ক্ষতিকর কিছু আছে কি না। ওই পরীক্ষার ফল তারা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে দেবে। অধিদপ্তরও নিজস্ব উদ্যোগে রেনিটিডিন ট্যাবলেটের গুণগত মান পরীক্ষা করবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হারুনুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভারতের দুটি কোম্পানির কাঁচামালে উৎপাদিত রেনিটিডিনে ক্যানসারের উপাদান পাওয়া গেছে। ওই দুটি কোম্পানি থেকে রেনিটিডিনের কাঁচামাল আমদানি করে ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি কোম্পানি ভারতের ওই সব প্রতিষ্ঠান থেকে কাঁচামাল আমদানি করে রেনিটিডিন উৎপাদন করে থাকে। তাদের বাজার থেকে ওষুধ প্রত্যাহারের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রেনিটিডিন গ্রুপের ওষুধ বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। ১৯৭৬ সালে রেনিটিডিন আবিষ্কার করে গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন (জিএসকে)। ১৯৮১ সালে প্রথম বাজারে ছাড়া হয় ওষুধটি। বাংলাদেশি ওষুধ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের নিউট্যাক, একমি ল্যাবরেটরিজের রেনিডিন, এসেনশিয়াল ড্রাগসসহ কয়েকটি কোম্পানির রেনিটিডিন; অপসোনিনের রেনিটিড এই গ্রুপের ওষুধ। আরও বেশ কয়েকটি বাংলাদেশি কোম্পানি বিভিন্ন নামে এ গ্রুপের ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন করে থাকে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এখন দেশের ৫ শতাংশ রোগী রেনিটিডিনের ওষুধ সেবন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত