বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, সব দুর্নীতি ফাঁস হয়ে গেলেও জোর করে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ সরকার। গতকাল রবিবার বিকেলে রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠ সংলগ্ন পাঠানপাড়া মোড়ের বড় রাস্তায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিযোগ করে তিনি অবিলম্বে সংসদ ভেঙে নিরপেক্ষ নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত এই বিভাগীয় সমাবেশে ব্যাপক বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীতে আজ অঘোষিত কারফিউ ছিল। কোনো গাড়ি চলেনি। খাবার হোটেল পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নেতাকর্মীদের আসতে পথে পথে বাধা দেওয়া হয়। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারপরও সমাবেশে বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম হয়।’
সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। কিন্তু তারা মুক্ত করতে দেবে না। তার জন্য আমাদের আন্দোলন করতে হবে। এ সময় তিনি দলমত নির্বিশেষে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষের একটি দল। আমরা ক্ষমতা চাই না। আমরা জনগণের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে চাই। দেশের মানুষ মুক্তি চায়। সরকারের সব কিছু ফাঁস হয়ে গেছে। এখন জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। তাই এখনো সময় আছে সংসদ ভেঙে দিয়ে অবিলম্বে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। গত ১৮ মাস ধরে আমরা নেত্রীকে মুক্ত করার জন্য চেষ্টা করেছি। আন্দোলন করেছি, আমরা নির্বাচনে গেছি। কিন্তু আমাদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বর্তমান সরকার দানবে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির ২৬ লাখ নেতাকর্মীকে আসামি বানিয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে। যে লোকটি কোনোদিন রাস্তাতেও যায়নি তাকে দেওয়া হয়েছে নাশকতার মামলা। অথচ সে জানেই না নাশকতা কী? আমার বিশ্বাস সমাবেশে উপস্থিত অর্ধেকের নামে মামলা রয়েছে। বর্তমান তথ্যমন্ত্রী নতুন করে বিভিন্ন তথ্য আবিষ্কার করছেন। তিনি হচ্ছেন ক্রিয়েটিভ ইনফরমেশন মিনিস্টার। তিনি বললেন, প্রতি মাসে নাকি ক্যাাসিনোর টাকা তারেক রহমানের কাছে যায়।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ।
বিভাগীয় সমাবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে প্রশাসনের নির্দেশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রাজশাহী জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন রবি বলেন, বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে বাস বন্ধ করা হয়েছে। তবে ঢাকা রুটে বাস চলাচল করছে। বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে বাস বন্ধের কোনো সম্পর্ক নেই।
