আওয়ামী লীগের মুখে উন্নয়ন আর বুকে দুর্নীতি মন্তব্য করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করার কারণে আওয়ামী লীগ এখন জনগণের কাছে ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, কথিত দুর্নীতিবিরোধী
অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে যখন জনগণের সামনে আওয়ামী লীগের দুর্নীতির কালিমালিপ্ত চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়েছে, তখন সেই চেহারা আড়াল করার জন্য তারা নানারকম কুতর্কের জন্ম দিচ্ছে। নিশিরাতের সরকারের কাছে জনগণ কুতর্ক শুনতে চায় না, দুর্নীতিবাজরা কে কোন দলের, সেটি শুনতে চায় না। জনগণ চায়, বিএনপিও চায়, দুর্নীতিবাজ সে যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তিনি বলেন, সুশাসনের আমেজ দিতেই নাকি ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান। চুনোপুঁটিদের অফিস-বাড়ির সিন্দুকে শত শত কোটি টাকার স্টক। তাহলে রাঘব বোয়ালদের কাছে রয়েছে রাষ্ট্রের লুট হওয়া লাখো-কোটি টাকা। রিজভী বলেন, অভিযানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মাঝারি নেতাদের ঘরে ঘরে অবৈধ টাকার সিন্দুক আবিষ্কার হওয়ার পর বড় নেতারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। চারদিক থেকে যখন রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে অভিযানের দাবি জোরালো হচ্ছে, তখনই থামিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিযান। রাঘব বোয়াল ও দুর্নীতির রথী-মহারথীদের সুতোর টানে এগোতে পারছে না অভিযান। সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের এখন নানারকম মিথ্যাচার ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো কিছুই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অজানা ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক মাত্রই বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতি, অনাচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা পুলিশের স্বাভাবিক কাজের অংশ। আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে উদ্দেশ্য করে রিজভী বলেন, সাহস থাকলে আগে পদত্যাগ করুন। কারা দুর্নীতি করছে তা জনগণই খুঁজে বের করবে। সারা দেশে বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের জমি, বসতবাটি বিক্রি করে থানা পুলিশ সামলাচ্ছেন, জামিন নিচ্ছেন। আর আপনি (আইনমন্ত্রী) বলছেন, প্রত্যেকেই দুর্নীতি করছেন। এ যেন যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন, কেষ্টা বেটাই চোর।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, নাজমুল হক নান্নু, বিএনপির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
