ফুঁসছে পদ্মা, প্লাবিত রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:৩৪ পিএম

ফুঁসে উঠেছে পদ্মা। রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানি প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে। পানির উচ্চতা বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই করছে। যেকোনো সময় এখানকার বিপৎসীমা (১৮.৫০ মিটার) অতিক্রম করবে।

এরই মধ্যে রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জেলার গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘায় উপজেলার চরাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ এরই মধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। চরাঞ্চলের মানুষ উদ্বেগের মধ্যে বসবাস করছে।

ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে আসা ঢলে পদ্মায় বেড়েই চলেছে পানি। ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরী হয়েছে।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপাত্ত সংগ্রহকারী এনামুল হক বলেন, সোমবার সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৯০ মিটার। আর মঙ্গলবার সকাল ৬টায় এই উচ্চতা দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ০৪ মিটারে। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় পানির উচ্চতা বেড়ে হয় ১৮ দশমিক ০৫ মিটার। দুপুর ১২টায় হয় ১৮ দশমিক ০৭ মিটার। আর বিকেল ৩টায় পানির উচ্চতা দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ০৯ মিটার। অর্থাৎ প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে পদ্মার পানি।  

পদ্মায় পানি বাড়ায় রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। অনেকেই চরাঞ্চল ছাড়তে শুরু করেছেন। রাজশাহী নগরীর পঞ্চবটি, শেখের চক এলাকায় পদ্মা নদীর ধারে বসবাসকারী কয়েক শ পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।  

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী বলেন, পদ্মার পানি বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। তবে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা ও চারঘাট উপজেলার চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেগুলোতে বন্যায় ক্ষতি হবার আশংকা রয়েছে।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, সোমবার পর্যন্ত রাজশাহীর চারটি উপজেলার চররাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। যাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬শ পরিবারকে চরাঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সরিয়ে নেওয়া লোকজনকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 তিনি বলেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে চারটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত