বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কিছু অপ্রিয় কথা

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:২৭ পিএম

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে অনেক অপ্রিয় কথাই বের হয়ে আসছে। একদিকে বেশকিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী র‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিম্নমান ইত্যাদি কারণে দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। র‌্যাংকিংয়ে সেরা এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ভারত, পাকিস্তানের কথা না হয় বাদই দিলাম। কিন্তু সেরা হাজারের তালিকায় এমনকি উগান্ডার একটি, ইরাকের একটি, শ্রীলঙ্কার একটি, লেবাননের দুইটি, ঘানার একটি, ওমানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দেশের উদাহরণ জাতি হিসেবে আমাদের ভীষণ লজ্জায় ফেলে দিয়েছে।

 

ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক, স্বৈরতান্ত্রিক, রাজতান্ত্রিক, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সেরাদের তালিকায় থাকলেও আমাদের একটিও নেই। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের এ হাল কেন হলো বা এ পরিস্থিতি থেকে কীভাবে উত্তরণ সম্ভব এসব নিয়ে গণমাধ্যমে, ফেইসবুকে অনেকেই লিখছেন। আমার এ বিষয়ে আগ্রহ থাকায় আমি নিজেও কিছু লেখালেখি করি। এ ধরনের লেখালেখির একটা ইতিবাচক দিক আছে। জনগণের অর্থে বা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এসব লেখালেখি অপরিহার্য ছিল। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়, আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলে সরাসরি অভিভাবকদের কষ্টার্জিত আয়ের টাকায়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই সত্য অনুধাবন করতে হবে এবং দেশের জনমতকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। শিক্ষকরা যদি মনে করেন তারা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে তাহলে তার ফলাফল কী হতে পারে তা আমরা সর্বক্ষেত্রে দেখতেই পাচ্ছি। শুধু ভিসিদের নয় সব শিক্ষক-কর্মচারীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

 

বিভিন্ন লেখালেখি বা আলোচনা থেকে এবং আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত কয়েক দশকের ঘটনাপ্রবাহ থেকে আমরা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধঃপতনের জন্য দুটো সুনির্দিষ্ট কারণকে শনাক্ত করতে পারি। প্রথমটি অবশ্যই রাজনৈতিক বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা। এবং দ্বিতীয়টি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামো থেকে শুরু করে শিক্ষাপদ্ধতি বা কারিকুলামের নিম্নমান।

 

এটা অনস্বীকার্য যে আমাদের স্বাধীনতার আন্দোলনে বা সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র-শিক্ষকদের একটা ভ‚মিকা ছিল। কিন্তু এরশাদ-পরবর্তী প্রায় তিনি দশকের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্ররাজনীতি দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থাকে কতটুকু শক্তিশালী করেছে এটা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও উচ্চশিক্ষা পরিস্থিতির যে চরম অধঃপতন হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। খুবই সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন দেশের ছাত্ররাজনীতির প্রবণতা নিয়ে কিছুটা খোঁজখবর নিয়ে দেখলাম আমাদের মতো কোনো দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষমতার ভরকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয় না। স্টুডেন্ট পলিটিক্স বা ছাত্ররাজনীতি না বলে স্টুডেন্ট অ্যাক্টিভিজম শব্দটিই এখন বেশি ব্যবহৃত হয় ছাত্ররা মূলত তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্কিত দাবি-দাওয়া নিয়েই বেশি আন্দোলন করেন। একটি স্বাধীন দেশে ক্ষমতার পালাবদল নিয়ন্ত্রণ করবেন রাজনীতিবিদরা, রাজনৈতিক দল, জনগণ। কিন্তু সব সরকারকেই যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্রদের রাজনীতির মাধ্যমে সপক্ষে রাখতে হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় আর বিশ্ববিদ্যালয় থাকে না। জ্ঞানচর্চার স্থান হয়ে ওঠে রাজনীতির পীঠস্থান। বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু রাজনীতির চর্চা করবে সেটা নিয়ে শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজের লোকজন আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। যে রাজনীতি ভিসিদের বা ছাত্রসংগঠনের নেতাদের দুর্নীতিপরায়ণ করে তোলে, মেধাবী শিক্ষক বা সাধারণ শিক্ষার্থীদের তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে সেই রাজনীতি বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটুকু দরকার তা ভেবে দেখতে হবে। আজ ভিসিদের দুর্নীতি নিয়ে কথা উঠছে। বেশি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় হয়তো বেশিমাত্রায় আসছে। কিন্তু এসব ঘটনার সঙ্গে তো আমরা অনেকেই পরিচিত। সত্যতা জানি না তবে অনেক আগেই শুনেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভিসি নাকি তার নিজের মেয়েকে নেওয়ার জন্য প্রথম শ্রেণিতে তার মেয়ের অবস্থানের পূর্বের সবাইকে এক বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। সুতরাং দুর্নীতি তো আর নতুন কিছু নয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও প্রকট। শিক্ষকতা একসময় পর্যন্ত বিশ্বজুড়েই স্বাধীন পেশা হিসেবেই বিবেচিত হয়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে তাই নিয়মকানুন মেনে চলার প্রবণতা সব দেশেই কম ছিল। কিন্তু নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় র‌্যাংকিং, গবেষণা, গ্রাজুয়েটদের চাকরি এই প্রসঙ্গগুলো উত্থাপিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসন বা নেতৃত্ব (Educational administration and leadership) অধ্যয়নের একটি স্বতন্ত্র বিষয় হিসেবে গড়ে উঠেছে। দুঃখের বিষয় হলো আমাদের দেশে যারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে উচ্চশিক্ষার নীতিনির্ধারণের সঙ্গে জড়িত তাদের মধ্যে শিক্ষাঙ্গনের সাম্প্রতিক প্রবণতা নিয়ে কোনো সম্যক ধারণা নেই। এর প্রতিফলন আমরা দেখি অভিন্ন নিয়োগ পদ্ধতিসহ তাদের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে।

 

হঠাৎ করেই দেশে এত পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টি হয়েছে যে এগুলো পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা রীতিনীতি বোঝেন এত দক্ষ শিক্ষাপ্রশাসক তো দেশে নেই। কিছু কিছু শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখা যাচ্ছে যে তারা বিদেশি ভিসি, প্রোভিসি, ডিন নিয়ে আসছে। যেমন দেশের খ্যাতনামা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, এআইইউবিতে বিদেশি ভিসি, আইইউবির প্রোভিসি বিদেশি ইত্যাদি। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষক হিসেবে খ্যাতনামা প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে আসা হচ্ছে।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিটি বিভাগের স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান থাকা উচিত, যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা থাকবে। বাংলাদেশের কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এরকম পরিকল্পনার ভিত্তিতে চলে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি এত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যে সিনিয়র শিক্ষকরাই কোর্স পান না। প্রতি সেমিস্টারে প্রতিটি শিক্ষককে কয়টি কোর্স নিতে হবে তার তো একটি নিয়ম থাকতে হবে। সেটার ভিত্তিতেই তো শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। একজন শিক্ষার্থী পাস করা মাত্রই তাকে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং মাস্টার্স পর্যন্ত ক্লাস নিতে তাদের কোনো বাধা নেই। অধ্যাপক হতেও বাধা নেই। এদের কোর্স দিতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষককে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে এরকম একজন শিক্ষক হয়তো কয়েক বছর দেশে শিক্ষকতা করে বাইরে যাচ্ছেন মাস্টার্স, পিএইচডি করতে এবং সেখানে তিনি টিচিং বা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমান যুগে এটি একেবারেই হাস্যকর একটি ব্যাপার। যেখানে দেশের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ছাড়া সহকারী অধ্যাপক পদেই নিয়োগ দেওয়া হয় না সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাস্টার্স ডিগ্রিধারীদের এমনকি অধ্যাপক বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জনগণের অর্থের এরকম অপচয় মেনে নেওয়া কঠিন।

 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরতে পরতে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দৃশ্যমান। শিক্ষকদের সার্ভিস রুল, কোড অব কন্ডাক্ট আছে কি নেই তা তো আমরা বুঝি না। নিয়মকানুন থাকলে এত যৌন নির্যাতনের ঘটনা পত্রিকায় আসে কীভাবে! আমি যতদূর জানি ইউজিসি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো বিভাগে অ্যাডভাইজর নিয়োগকে সমর্থন করে না। কারণ এতে দেখা যায় অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন কাজ করেন। তার পরেও দেখা যাচ্ছে অনেক শিক্ষক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অ্যাডভাইজর হিসেবে কাজ করছেন বা অন্যত্র চাকরি বা কনসালটেন্সি করছেন। সবাই নিঃসন্দেহে এরকম নন। কিন্তু প্রভাবশালী এরকম কিছু শিক্ষকের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানের সময়সীমাসহ অনেক নিয়মনীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অফিস টাইমে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে বলা হলে তারা বলেন তারা গবেষণায় ব্যস্ত। আবার অনেক শিক্ষক যখন তখন বিদেশে যান। অথচ তারা কী গবেষণা করেন সেটা তো আমরা প্রতি বছর র‌্যাংকিংয়ে দেখছি।

 

শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের জন্য দেশে প্রচুর পিএইচডি শিক্ষক প্রয়োজন। বিদেশের অনেক আন্তর্জাতিক স্কুলে পর্যন্ত পিএইচডি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে পিএইচডি ডিগ্রি দেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। উদাহরণ স্বরূপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিতÑ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে এটি প্রথম আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ। এ বিভাগের অনেক শিক্ষক দেশে-বিদেশে ব্যাপক পরিচিত, মিডিয়ার পরিচিত মুখ। অথচ এই পর্যন্ত তারা একটি শিক্ষার্থীকেও পিএইচডি ডিগ্রি দিতে পারেননি। এর ফলে যেটা হয়েছে দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই বিভাগ বা এই বিষয় সম্পর্কিত বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত পিএইচডি শিক্ষক  নেই। একইভাবে অনেক শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা একেবারেই উপেক্ষিত। এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা ফান্ড নেইসহ বিভিন্ন যুক্তি দেখান। অথচ আমরা প্রয়াত অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামসহ অনেক আদর্শ শিক্ষক পেয়েছি যারা রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে দেখিয়ে গিয়েছেন একজন আদর্শ শিক্ষকের কেমন হওয়া উচিত। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম কেমব্রিজ থেকে এসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের বিষয়ে গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত করেন। আমি পত্রিকায় পড়েছি বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী তার অধীনে এমফিল, পিএইচডি ডিগ্রির জন্য গবেষণা করেছেন, নিজেদের সমৃদ্ধ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বড় পদের অফার তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন।

 

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে সক্রিয় করতে হবে। পরিচালক হিসেবে রাজনৈতিক নিয়োগ বাদ দিয়ে প্রকৃত বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দিতে হবে। আমি শুনেছি যে কিছু সেরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি দিতে চাচ্ছে, কিন্তু অনুমতি পাচ্ছে না। অপেক্ষাকৃত নবীন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) পিএইচডি প্রোগ্রাম শুরু করেছে। অথচ ঢাকাসহ দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণা একেবারেই অবহেলিত, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণার গুরুত্বকে শেষ করে দিয়েছে। সবশেষে কিছুটা অপ্রাসঙ্গিকভাবেই আমি আমাদের দেশে শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকতার কথা উল্লেখ করতে চাই। ঢাকাসহ দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবিষয়ক সংবাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার নিয়োগ করা হয় যারা মূলত সাংবাদিকতাসহ সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী। শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকতা এখন একটি বিশেষায়িত বিষয়। আমাদের দেশে ব্যাপক মাত্রায় অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে শিক্ষা নিয়ে সাংবাদিকতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা কেন্দ্রের কার্যক্রম, স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান, জার্নালের মান, নিয়োগ বা প্রমোশনপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তুলনামূলক যোগ্যতা পর্যালোচনার জন্য শিক্ষার সাম্প্রতিক প্রবণতা জানেন এরকম অভিজ্ঞ সাংবাদিক প্রয়োজন। অনভিজ্ঞ সাংবাদিকদের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা পরিবেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণমাধ্যমে আসে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দেখতে হবে শিক্ষার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। অথচ আমাদের দেশে দেখা হয় রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে। যতদিন জাতি হিসেবে আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন না করব ততদিন দেশের শিক্ষা পরিস্থিতির নাটকীয় কোনো উন্নতি হবে না।

লেখক

গবেষক ও কলামনিস্ট

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত