তিন দশক আগে চুরি হয় সৌদি রাজপুত্র ফয়সাল বিন ফাহাদের রত্ন ভাণ্ডার। যেখানে ছিল আলোচিত বা ডায়মন্ড বা নীল হীরা। চুরির কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশ হয় চোরের নাম। থাই পুলিশ ধরেও ফেলে তাকে। এরপর উদ্ধার করা রত্ন ফিরিয়ে দেওয়া হয় সৌদি রাজপরিবারকে। কিন্তু রিয়াদে ঘটে অন্য ঘটনা। রাজপরিবার জানায়, ফেরত আসা বেশির ভাগ রত্ন ভুয়া। এমনকি নীল হীরাও। আসলে কী ঘটেছিল? বিবিসি অবলম্বনে লিখেছেন ওয়াহিদ সুজন
কীভাবে চুরি হলো
১৯৮৯ সালে সৌদি আরবের রাজকীয় প্রাসাদ থেকে চুরি হয় মূল্যবান অনেক রত্ন । যার জের ধরে সংঘটিত হয় একাধিক হত্যাকাণ্ড, যা শেষ পর্যন্ত ক‚টনৈতিক জটিলতায় সমর্পিত হয়। মূল্যবান নীল হীরা রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। সম্প্রতি এই চুরির পেছনে থাকা ব্যক্তি দুর্লভ সাক্ষাৎকারে ঘটনাটির
বর্ণনা দেন। সৌদি রাজকুমার এবং তার স্ত্রী তিন মাসের ছুটিতে প্রাসাদ থেকে দূরে ছিলেন। এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল চোর ক্রিয়াংক্রাই তেচামং। যদিও তিনি এ ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলেন। সাফ সাফ জানতেন, সৌদি আরবে চুরির সাজা হলো অঙ্গচ্ছেদ। কিন্তু ক্রিয়াংক্রাই সাধারণ কোনো চোর ছিলেন না। বাদশাহ ফাহাদের ছেলে রাজপুত্র ফয়সালের প্রাসাদে তিনি কাজ করতেন। সেই প্রাসাদে থাকা কয়েক ডজন মূল্যবান রত্ন তাকে লোভী করে তোলে। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে ফয়সালের প্রাসাদের প্রতিটি কোণও তিনি চিনতেন। তিনি জানতে পারেন, রাজপুত্রের রত্ন ভাণ্ডারের চারটি শেফের মধ্যে তিনটি নিয়মিত খোলা থাকে। এটাই রত্ন গায়েবের জন্য বড় সুযোগ। এ ছাড়া জুয়া খেলার দেনা জমেছিল বেশ। এটাই হতে পারে সৌদি আরব ত্যাগের বড় সুযোগ।
এক দিন সন্ধ্যায় বাহানা তৈরি করে প্রাসাদের ভেতরে রয়ে গেলেন ক্রিয়াংক্রাই। অপেক্ষা করছিলেন কখন অন্য কর্মচারীরা বের হবেন। এরপরই তিনি রাজপুত্রের শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন। কিছু রত্ন নিজের শরীরে ডাক্ট টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে নেন। কিছু রত্ন ঘর পরিষ্কারের যন্ত্রপাতি ও ভ্যাকুয়াম ব্যাগের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখেন।
শেষ পর্যন্ত ক্রিয়াংক্রাইয়ের লুট করা পণ্যের ওজন দাঁড়ায় ৩০ কেজি। যার বাজারমূল্য দুই কোটি ডলার। পরে সৌদি কর্মকর্তারা জানান, চুরি যাওয়া দ্রব্যের মধ্যে স্বর্ণের ঘড়ি এবং ওজনদার রুবিও ছিল। আলোচিত রত্নের মধ্যে ছিল ডিমের আকারের ৫০ ক্যারেটের বিরল নীল হীরা। ছিল সবুজ হীরাখচিত একটি নেকলেস, যার দাম ২০ লাখ ডলার।
ওই দিন রাতে ক্রিয়াংক্রাই চুরি করা জিনিসগুলো প্রাসাদের বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখেন। তিনি জানতেন, এসব জায়গায় খোঁজার কথা কেউ ভাববে না। পরের পুরো এক মাস ধরে তিনি একটু একটু করে জিনিসগুলো প্রাসাদের বাইরে নিয়ে আসেন। রতœগুলো একটি বড় কার্গোর মধ্যে লুকিয়ে নিজের দেশ থাইল্যান্ডে পাচারের প্রস্তুতি নেন ক্রিয়াংক্রাই।
থাইল্যান্ডে চোরাই রত্ন
একসময় চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। কিন্তু তখন চোর নিজ দেশে চলে গেছে। তার আগেই পৌঁছে যায় কার্গো। মালগুলো দেশে পাচারের ক্ষেত্রে খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন ক্রিয়াংক্রাই। কীভাবে থাই কাস্টমসের চোখের সামনে দিয়ে খালাস করবেন! কারণ দেশটিতে প্রবেশের সময় সব মালই তল্লাশি করা হয়। অবশ্য উপায়ও জানা ছিল। ক্রিয়াংক্রাই জানতেন, ঘুষ নিতে থাই কর্মকর্তাদের কোনো জুড়ি নেই। এখানেই চালাকি করেন তিনি। টাকা ও চিঠি পুরে একটি খাম রেখে দেন কার্গোর ভেতর। চিঠিতে লেখেন, তিনি কিছু পর্নোগ্রাফি সামগ্রী আমদানি করেছেন, এটি যেন তল্লাশি করা না হয়। বলা বাহুল্য, ক্রিয়াংক্রাইয়ের এই কৌশল কাজে লেগে যায়। কিন্তু আইনের হাত থেকে রক্ষা পাননি। সৌদি প্রতিপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ১৯৯০ সালের জানুয়ারিতে ল্যাম্পং প্রদেশের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন।
এরপর ক্রিয়াংক্রাইয়ের চুরি করা রত্নের কিছু তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়, বাকিগুলো শিগগিরই ক্রেতাদের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু এর মধ্যে অন্য একটি ঘটনা ঘটেছে সবার অলক্ষ্যে। রতœগুলো রিয়াদে পৌঁছানোর পর দেখা যায় ৮০ ভাগ সামগ্রীই হারিয়ে গেছে, যা উদ্ধার করা হয়েছে তার অনেকগুলোই ভুয়া। এর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে উচ্চপদস্থ থাই কর্মকর্তাদের স্ত্রীর ছবি। এক দাতব্য অনুষ্ঠানে তাদের গলায় থাকা নেকলেসের সঙ্গে হারানো র্তনের মিল দেখা যায়। বোঝা যায়, সাধারণ পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চুরির ঘটনার বহুদূর মোড় নিয়েছে।
মামলাটি হয়তো ক্রিয়াংক্রাইয়ের কয়েক বছর জেল হওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হতে পারত। তবে এর জন্য মেনে নিতে হতো নীল হীরাসহ রাজপুত্রের গায়েব হওয়া রত্নগুলো পাওয়া যাবে না। কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি। শুরু হয় আরেক রক্তাক্ত অধ্যায়। হত্যা ও গুমের।
রহস্যময় কয়েকটি হত্যাকাণ্ড
১৯৯০ সালের ফেব্রæয়ারির প্রথম দিকে সৌদি অ্যাম্বাসির ভিসা সেকশনের দুই কর্মকর্তা রাজধানী ব্যাংককে গাড়ি চালিয়ে ফিরছিলেন। কিন্তু জীবন্ত ফেরা হয়নি তাদের। গন্তব্যের আধা মাইলের আগে বন্দুকধারীরা হামলা করে গাড়িতে। তখন দুজনেই নিহত হন। একই সময় নিহত একজনের সহকর্মীর অ্যাপার্টমেন্টে হামলা চালানো হয়। সেখানেও একজন নিহত হন।
এর কয়েক সপ্তাহ পর নিখোঁজ রতেœর খোঁজে ব্যাংকক পাঠানো হয় সৌদি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল-রুওয়াইলিকে। আসার পরপরই তিনি আক্রান্ত হন। কোনো চিহ্ন না রেখেই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আর কখনো রুওয়াইলিকে দেখা যায়নি। ধারণা করা হয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডগুলো নিয়ে একগুচ্ছ তত্ত¡ প্রচলিত রয়েছে। উইকিলিকস ২০১০ সালের একটি নথি প্রকাশ করে, যা মূলত ব্যাংককের যুক্তরাষ্ট্র অ্যাম্বাসির ডেপুটি চিফ অব মিশনের ক‚টনৈতিক নোট। তিনি লেখেন, হত্যার ঘটনাগুলোর সঙ্গে লেবাননের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
কিন্তু একজন সৌদি কর্মকর্তা সাফ সাফ জানতে এ ঘটনার জন্য কে দায়ী। তিনি হলেন মোহাম্মদ সাঈদ খোজা। এই সৌদি ক‚টনীতিকের ৩৫ বছর দেশ-বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। তাকে চুরির ঘটনা তদন্তে ব্যাংকক পাঠানো হয়। তিন মাসের জন্য পাঠানো হলেও তিনি কয়েক বছর দেশটিতে অবস্থান করেন। তবে তাকে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নয়, কম গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ দিয়ে পাঠানো হয়। কারণ, চুরি ও হত্যার ঘটনায় সৌদি-থাইল্যান্ডের সম্পর্ক প্রায় তলানিতে ঠেকেছিল। ওই সময় সৌদিতে ২ লাখ থেকে ১৫ হাজারে নেমে আসে থাই শ্রমিক। তাদের বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অল্প কিছুতে নেমে আসে। বোঝাই যাচ্ছে, চুরির মূল্য দিতে হয়েছিল থাই অর্থনীতিকে। অবশ্য দুই দেশের সম্পর্ক এখন ভালো।
খোজার পদক্ষেপগুলো ছিল ব্যতিক্রম। স্মিথ অ্যান্ড ওয়েসন পিস্তল ডেস্কে রেখে সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেন তিনি, যা থাই সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় ছাপানো হয়। ওই সময় তিনি ইঙ্গিত দেন অফিস থেকে বের হলেই পুলিশ তাকে ধরবে। তিনি বরাবরই প্রকাশ্যে দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া রতœগুলো থাই পুলিশই গায়েব করে দিয়েছে, তারাই তিন ক‚টনীতিককে হত্যা করেছে। কারণ, চুরি সম্পর্কে তাদের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য ছিল। ক‚টনীতিকদের হত্যার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদ আল-রুওয়াইলির নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আনা হয়, কিন্তু পরে অভিযোগটি বাতিল করা হয়। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খোজা বলেন, ‘এখানে সরকারের চেয়ে পুলিশের ক্ষমতা বেশি।’ আরও বলেন, ‘আমি একজন মুসলিম। এখানে আছি, কারণ আমার মনে হচ্ছে শয়তানের সঙ্গে যুদ্ধ করছি।’ সৌদি আরবের ক্রমাগত চাপের মুখে থাইল্যান্ড তখন মামলাটির মীমাংসায় তৎপর হয়। জানা যায়, ক্রিয়াংক্রাই থাইল্যান্ডে ফিরে আসার পর যে লোকটিকে রত্ন বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়, সে-ই এ ঘটনার জন্য দায়ী। সে-ই আসল রতেœর জায়গায় ভুয়া রতœগুলো রেখে দেয়। আর এই রত্ন ব্যবসায়ী শান্তি সিথানাকানকে মূল সাক্ষী করা হয়। কিন্তু ১৯৯৪ সালের জুলাইয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানের লাশ পাওয়া যায় ব্যাংককের বাইরে একটি মার্সেডিজ গাড়িতে। ফরেনসিক রিপোর্ট জানায়, একটি বড় ট্রাক তাদের গাড়িতে আঘাত করেছিল। যার কারণে এই অপমৃত্যু। কিন্তু একাধিক সাক্ষাৎকারে খোজা দাবি করেন, ফরেনসিক রিপোর্টে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং দুর্ঘটনার মতো করে সাজানো হয়েছে।
খোজা ঠিকই ভেবেছিলেন। নিখোঁজ রত্ন গুলো গায়েব হওয়ার পেছনেই পুলিশই দায়ী। চোরের ওপর বাটপারি করেছেন তারা। রত্ন ব্যবসায়ীকে মুখ বন্ধ রাখতে বলপ্রয়োগ করেন। এ জন্য তার স্ত্রী ও ছেলেকে খুন করা হয়। যার জের ধরে মূল তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশপ্রধান শ্যালোর কের্ডথেসের ২০ বছরের জেল হয়।
ক্রিংয়াক্রাইয়ের কথা
এদিকে ২৮ বছর হয়েছে ক্রিয়াংক্রাইয়ের জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার। চুরিও তিন দশক আগের ঘটনা। কিন্তু অতীত নিয়ে এখনো মানসিক চাপে ভোগেন। বর্তমানে উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডে বসবাস করেন তিনি। অবশ্য তাকে খুঁজে বের করতে বিবিসিকে ধাপে ধাপে কয়েকটি জায়গায় যেতে হয়। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদকরা যখন তার বাড়িতে যান, বারবার জানতে চান তারা পুলিশ কি না। পরে বাড়ির বাইরে ধানক্ষেতের মধ্যে গিয়ে কথা বলেন ক্রিয়াংক্রাই। জানান, যা ঘটেছে তার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়। এরপর ধীরে ধীরে চুরি, দেশে ফেরা, তারপরের ঘটনাগুলো জানান। বলেন, এখনো ভয় পান। মনে হয় তিনি খুন হয়ে যেতে পারেন যেকোনো সময়।
ক্রিয়াংক্রাই জানান, গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মনে হয়েছিল আমি নিজের মধ্যে নেই। সারাক্ষণ তিনি আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। সব সময় মনের মতো বিষয়টিকে আর খুঁচিয়ে তুলব না। ভাবতেন তাকে গুম বা খুন করার জন্য অনেক মানুষ ঘুরছে। এক সপ্তাহ ঘুমাতে পারেননি তিনি।
ক্রিয়াংক্রাইয়ের ধারণাই ছিল না তার অপরাধে খুনের ঘটনায় মোড় নেবে। তিনি জানতেন, চুরি করা স্বর্ণ ও রত্নর অনেক দাম। কিন্তু জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার আগে পর্যন্ত এর সত্যিকারের দাম জানতেন না। তিনি বলেন, ‘যখন পুলিশ আমার সন্ধান পায়, আমি তাদের সঙ্গে লড়তে চাইনি। ধরা দিয়েছি। আমার কাছে যা ছিল ফিরিয়ে দিয়েছি, বাকিগুলো ফেরত পেতে সাহায্য করেছি। কিন্তু থাইল্যান্ডের ক্ষমতাবান লোকরা যদি এর সঙ্গে যুক্ত না হতেন, ঘটনা এত দূর গড়াত না।’
ক্রিয়াংক্রাইয়ের পাঁচ বছরের জেল হয়। ক্ষমা পাওয়ার পর যা কমে দাঁড়ায় দুই বছর সাত মাস। জেল থেকে বেরিয়ে ক্রিয়াংক্রাই তার পদবি পাল্টে ফেলেন, যাতে বাবার অতীতে জন্য সন্তানকে আর বিব্রত হতে না হয়। নিজের অতীত নিয়ে এখনো অপরাধবোধে ভোগেন ক্রিয়াংক্রাই। জানান, জেল ছাড়ার পর তার জীবন ছিল হতাশা ও দুর্ভাগ্যপূর্ণ ঘটনায় ভরপুর। ২০১৬ সালের মার্চে বৌদ্ধ সন্ন্যাসী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানান। সেখানে বলেন, সৌদি হীরা চুরির সেই অভিশাপ মুছে ফেলতে এই জীবন বেছে নিয়েছেন। তার ওই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া অন্য সব মানুষ ও হত্যার শিকার হওয়াদের এই জীবন উৎসর্গ করছেন, যা করেছেন সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি। ক্রিয়াংক্রাই সন্ন্যাসী হওয়ার পর নতুন একটি নাম বেছে নেন। যার অর্থ দাঁড়ায়, যে হীরার মতো শক্তিশালী।
এদিকে রত্ন ব্যবসায়ীর পরিবারের খুনি পুলিশ অফিস শ্যালোর কের্ডথেসও পনেরো বছর জেল খেটে সাধারণ ক্ষমায় ছাড়া পেয়েছেন কয়েক বছর আগে। তিনি কখনো দোষ স্বীকার করেননি। কারাগারে সব সময় বলতেন তিনি দোষী নন। ছাড়া পাওয়ার পর তিনিও সন্ন্যাসী পাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ক্রিয়াংক্রাইয়ের অভিষেকেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু মঠে বেশি দিন টিকতে পারেননি।
অমীমাংসিত নীল হীরা চুরির ঘটনায় শুধু শ্যালোর কের্ডথেস ও ক্রিয়াংক্রাইয়ের জেল হয়েছে। বাকিরা নানা পর্যায়ে ছাড়া পেয়ে গেছেন। মার্চে থাইল্যান্ড সুপ্রিম কোর্ট সৌদি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল-রুওয়াইলির নিখোঁজ হওয়া ও হত্যার ঘটনায় পাঁচ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে খালাস দিয়েছে।
ক্রিয়াংক্রাই জানান, তিনি না চাইলেও অতীত এখনো ফিরে ফিরে আসে। মঠে থাকাকালে লোকরা তাকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসা করত নীল হীরাটি কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। তিনি তাদের কিছুই বলতেন না। কিন্তু তারা বিশ্বাস করত ক্রিয়াংক্রাই রত্নটি তার বাড়িতেই লুকিয়ে রেখেছে। অথচ হীরাটি কখনোই পাওয়া যায়নি। ৬১ বছরের ক্রিয়াংক্রাই মঠে ছিলেন তিন বছর। এরপর বাড়ি ফিরে আসেন। তিনি জানান, সারা জীবনের জন্য তিনি সন্ন্যাস নেননি। কারণ পরিবারের এখনো তাকে দরকার আছে। জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষি, চালের ব্যবসাসহ নানা ধরনের কাজ করে থাকেন।
নিজের কাঠের ঘরে বসে ক্রিয়াংক্রাই সাংবাদিকদের বলেন, তিনি থাইল্যান্ডের আর আট-দশজন সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করছেন। এটা ঠিক যে এখন তার কাছে অনেক টাকা নেই। কিন্তু যা আছে তা পরিবারের খাদ্য জোগানের জন্য যেথেষ্ট। আর ক্রিয়াংক্রাইয়ের মতে, এটাই তার জন্য সত্যিকারের সুখ।
