শুধু পূজা না, জন্মলগ্ন থেকেই মানাসের একটি উদ্দেশ্য আছে। তা হলো- ফ্যাশনের মাধ্যমে মানুষকে কিছু জানানো। এ জন্য আমার ডিজাইনে উঠে এসেছে সাহিত্য, ইতিহাস কিংবা চিত্রকর্ম। তবে সব সময় দেশীয় মেটারিয়াল ব্যবহার করি। পুরো পোশাকটায় বাঙালিয়ানার নিজস্ব স্বাদ আর গন্ধ থাকে। এবারের পূজা কালেকশনেও তেমন কিছু ডিজাইন এসেছে। খুব বেশি সংখ্যক পোশাক করিনি। আমি চেষ্টা করি একটি ডিজাইনের সর্বোচ্চ ১৫-২০টি পোশাক করতে। যারা আমার পোশাকের নিয়মিত গ্রাহক তাদের খুব পছন্দ হয়েছে এবারের পূজার কালেকশন। এর সবচেয়ে বড় কারণ হলো নিজস্বতা। তারা সবাই জানে, আমি যে পোশাকটি কিনছি তা পরে অন্য কেউ মণ্ডপে আসবে না।
আমি এমনিতেই মৌলিক রঙে কাজ করি না। কম করে হলেও দুই-তিনটি রঙের মিশেলে একটি শেড তৈরি করি। তাই অন্যদের থেকে আমার কাপড়ের রঙে ভিন্নতা থাকে। পূজায় লাল আর সাদার যোগ আছে। আমার পোশাকেও তা পাবেন, তবে যে লাল-সাদা এতদিন দেখেছেন তার বাইরে ভিন্ন শেডে আমি উপস্থাপন করেছি।
বিশ্বের যেকোনো দেশের একটি বাচ্চাকে বিশ্বখ্যাত চিত্রকর্মগুলো দেখালে তারা কিন্তু চিনতে পারে। আমাদের দেশে বাচ্চা কেন, প্রাপ্তবয়স্করাও সেটা পারেন না। তাই আমি চেয়েছি পূজার শাড়িতে পিকাসোর মতো চিত্রশিল্পীর বিখ্যাত চিত্রকর্ম 'গোয়ের্নিকা' প্রেজেন্ট করতে। এতে করে একজন লোক মুগ্ধ হয়ে হোক বা লজ্জায় পড়ে হোক জানতে চেষ্টা করবেন এটা কীসের ছবি। দেশীয় পোশাক শাড়িতে বিদেশি চিত্র ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের একটি ফিউশন করেছি। তবে একে ফিউশন শাড়ি বলা চলে না। কারণ আমি শাড়ির ধরন বা মোটিফে তেমন পরিবর্তন আনিনি। মোটাদাগে যারা প্রকৃত অর্থে বাঙালিয়ানা পছন্দ করেন তাদের এ কাজগুলো বরাবরই পছন্দ হওয়ার মতো।
