পেঁয়াজ রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। আর তার জেরে পেঁয়াজের ঝাঁজে জেরবার প্রায় গোটা এশিয়া। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের। তিন প্রতিবেশী দেশে গত দু’সপ্তাহে কোথাও দ্বিগুণ, কোথাও তিনগুণ বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। হন্যে হয়ে চীন-মিসরের মতো দেশ থেকে আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। যদিও তাতেও সুরাহা এখনো মেলেনি। কাঠমান্ডু থেকে কলম্বোÑ আগুন দামে বিকোচ্ছে পেঁয়াজ। নাভিশ্বাস আমজনতার।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদক দেশও ভারত। তাই বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমারের মতো দেশ পেঁয়াজের জন্য ভারতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এখান থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে কার্যত হাহাকার পড়ে যায় এসব দেশে। ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার জেরে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপালের মতো দেশে দাম বাড়ছিলই। ভারত থেকে রপ্তানি বন্ধের জেরে দাম আরও চড়তে পারে বলেই আশঙ্কা সব মহলের। ঢাকায় এখন পেঁয়াজের কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা। কলম্বোতেও শ্রীলঙ্কান মুদ্রায় দাম ২৮০ থেকে ৩০০ (ভারতীয় মুদ্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা)। দু’দেশেরই ক্রেতারা বলছেন, গত দু’সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
আর এই সংকটের জেরেই বিকল্প দেশ থেকে আমদানির তোড়জোড় শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত ছাড়া পেঁয়াজ রপ্তানিকারী প্রধান দুই দেশ চীন ও মিসর। কিন্তু এসব দেশ থেকে পেঁয়াজ পৌঁছতে অনেক বেশি সময় লাগে। কিন্তু উপায় না দেখে শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যেই চীন ও মিসর থেকে আমদানি শুরু করেছে।
কিন্তু পরিস্থিতি বদল হবে কবে? পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের মতে, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষির ঘরে ওঠার পর বাজারে না আসা পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে দাম কমার সম্ভাবনা কার্যত নেই। মুম্বাইয়ের পেঁয়াজ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত শাহ বলেন, ‘ফসল উঠতে উঠতে অন্তত নভেম্বরের মাঝামাঝি হয়ে যাবে। তার আগে পর্যন্ত সরকার রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা তুলবে বলে মনে হয় না। একমাত্র ভারতে দাম কমলে তবেই ফের রপ্তানি চালুর কথা ভাববে ভারত। কিন্তু সেটা সময় সাপেক্ষ।’
