এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার নিয়ে কর্মশালা

ব্যবহারকারীর সচেতনতা রোধ করবে দুর্ঘটনা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২০ পিএম

শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সারা দেশেই এলপি গ্যাসের ব্যবহার বাড়ছে। তবে ব্যবহারকারীদের নেই কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা সচেতনতা। সাধারণ ব্যবহারকারীদের অসচেতনতার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনাও। অথচ বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক লাইন ও গাড়িতে থাকা সিএনজি সিলিন্ডারের চেয়েও বেশি নিরাপদ এলপিজি সিলিন্ডার। তাই দুর্ঘটনা রোধে ব্যবহারকারীদের সচেতন করার ওপর তাগিদ দিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এই কাজ করতে হবে এলপিজি বিতরণকারী কোম্পানিগুলোকেই।

গতকাল রাজধানীর উত্তরায় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (বিপিআই) উদ্যোগে ‘এলপিজি সিলিন্ডারের সঠিক ব্যবহার ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিপিআই মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণে প্রথমবারের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লি. অংশগ্রহণ করে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, এলপিজি সিলিন্ডার আসলে নিরাপদ জ্বালানি। এটাই আমরা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সবাইকে বোঝাতে চাই। এলপিজি ব্যবহার মানেই সবার মনের মধ্যে বিস্ফোরণের কথা আসে, অথচ বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক লাইন এবং গাড়িতে সিএনজি সিলিন্ডার থেকেও অধিক নিরাপদ এলপিজি সিলিন্ডার। প্রয়োজন শুধু একটু সচেতনতার।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্যবহারকারীর অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে এলপিজির ওপর এক ধরনের ভীতি তৈরি হচ্ছে। যদিও দুর্ঘটনার জন্য সিলিন্ডারের কোনো ভ‚মিকাই নেই। তাই সম্ভাবনার এলপি গ্যাস মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে অবশ্যই গ্রাহকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার রীতি ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর এই দায়িত্ব নিতে হবে এলপিজি বিতরণকারী কোম্পানিগুলোকেই।

বসুন্ধরা গ্রæপের মানবসম্পদ প্রধান ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রাইভেট সেক্টরে থাকা প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া এমন প্রশিক্ষণ সামনে এগিয়ে যেতে আমাদের সাহস জোগায়। আমরা প্রশিক্ষণ নিয়ে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীদেরও প্রশিক্ষিত করব, যেন সবাই এলপিজি ব্যবহারে নিজে সচেতন হতে পারে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে পারে।

বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (সেলস) জাকারিয়া জালাল বলেন, এলপিজি দুর্ঘটনা অনুসন্ধানে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছেÑ এলপিজির কারণে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। মানুষের অসচেতনতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। কোথাও দুর্ঘটনা ঘটলে বলা হয় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়েছে। তাই এটার ব্যবহার শেখানোর দায়িত্ব এলপিজি ব্যবসায়ীদের।

কর্মশালায় বিপিআই পরিচালক মাহবুবা ফারজানা, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক মো. সামসুল আলম, বিস্ফোরক পরিদর্শক ড. মো. আবদুল হান্নান, বসুন্ধরা গ্রপের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট জেড এম আহমেদ প্রিন্স প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত