কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কারও অনুকম্পায় নয়, তিনি অবশ্যই জামিন পাওয়ার যে অধিকার সেই অধিকারেই মুক্ত হবেন। এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের মধ্য দিয়ে জনগণ ‘সুখবর’ শুনতে চায় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গে গত মঙ্গল ও বুধবার বিএনপির সাত সাংসদ দেখা করে আসার পর তার মুক্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ‘বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ’। এতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কারও অনুকম্পায় কারাবন্দি খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন না। তিনি অবশ্যই তার যে হক, ন্যায্য অধিকার, জামিন পাওয়ার অধিকার, সেই অধিকারেই মুক্ত হবেন। বেআইনি, মিথ্যা মামলা দিয়ে আর যা-ই করা হোক, খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা যাবে না। জনগণ অবশ্যই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের প্রিয় নেত্রীকে বের করে নিয়ে আসবে।’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশের জনগণ সব সময় আশা করে থাকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে দেশের স্বার্থ উদ্ধার হবে। কিন্তু তিনি যতবারই ভারত সফরে যান, ততবারই জনগণ হতাশ হয়। কারণ দেশের মূল সমস্যাগুলোর কোনো সমাধান হয় না; বরং বারবার আমরা দিয়ে আসি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা, তিস্তার পানি, বাণিজ্যের ভারসাম্যসহ বিদ্যমান কোনো সমস্যার সমাধান হয় না; বরং প্রায়ই ফারাক্কার বাঁধগুলো খুলে দিয়ে বাংলাদেশকে বন্যায় ভাসিয়ে দেয়। তবে হতাশ হতে চাই না, আমরা দেখতে চাই প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আমরা জানতে পারব দেশের স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী কিছু নিয়ে এসেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আজ ক্যাসিনো নিয়ে অনেক লাফালাফি হচ্ছে। ক্যাসিনোর চেয়ে যে বড় সম্পদ ভোটের অধিকার, স্বাধীন মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার অধিকার লুট হয়ে গেছে। সে জন্য আজকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। এটাই তাদের ইতিহাস। আজ কৌশল পাল্টে গণতন্ত্রের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে।’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী, কাদের গনি চৌধুরী, বিএনপির সহপ্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম প্রমুখ।
