রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের ‘জয় হিন্দ’ বক্তব্য ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়ার নিয়োগ নিয়ে অডিও ফাঁসসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টাব্যাপী খালি পায়ে মাথা
নিচু করে একাই দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে অবস্থান নেন। সাড়ে ১০টায় রাবি শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কর্মসূচিতে যোগ দেন তারা।
বেলা ১১টায় শহীদ তাজউদ্দীন সিনেট ভবনের সামনে ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও দুর্নীতিবাজ প্রশাসনের অপসারণ চাই’ শিরোনামে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের আয়োজনে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের অর্ধশতাধিক শিক্ষক।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপ-উপাচার্যের অডিও ফাঁসের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করা হয়।
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সরকার সুজিত কুমার বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্ণধার চৌধুরী জাকারিয়া দিব্যি নিয়োগ বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। যার একটিমাত্র অডিও ফাঁস হয়েছে। ‘তোমরা কত টাকা দিতে পারবা?’ এর মানে কী দাঁড়ায়? তাই অবিলম্বে নিয়োগ বাণিজ্য দুর্নীতিতে জড়িতের শাস্তির দাবি করছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সাবেক প্রশাসক অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী বলেন, ‘বর্তমান প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে সর্বোচ্চ রেজাল্ট ৩.৮৬৯ পেয়েও শিক্ষক হতে পারে না, কিন্তু উপাচার্যের জামাতা হওয়ার কারণে শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা পরিবর্তন করে ৩.২৫ হওয়া রেজাল্টে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। একই ঘটনা ঘটেছে উপ-উপাচার্যের জামাতার ক্ষেত্রেও।’
সমাবেশে আইন ও ভ‚মি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি ও আইন অনুষদের সাবেক ডিন ড. বিশ^জিৎ চন্দ, শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল করিম বাদল, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মিজানুর রহমান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর তরিকুল ইসলাম, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক জিন্নাত আরা, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামসুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।
