খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গ

দরকার হলে নতুন উদ্যোগ নেবেন বিএনপি এমপিরা

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫৮ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের সাত সংসদ সদস্য যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন আপতত তা ভেস্তে গেছে। অবশ্য এতে হতাশ নন দলটির সংসদ সদস্যরা। এক উদ্যোগ ভেস্তে গেলে অন্য উদ্যোগ নেবেন। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তারা আরও বলেন, ‘আমরা সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। এখন আমরা আমাদের দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলব। দল নেত্রীর মুক্তির জন্য যে উদ্যোগ নেবে আমরা সে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করব।’

সংসদ সদস্যদের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপির সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা নেত্রীর মুক্তির জন্য কোনো সুযোগই হারাতে চাই না। যেকোনো ভাবে আমরা তার মুক্তি চাই। আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছিলাম তা ভেস্তে গেছে। সমস্যা নেই। অন্যভাবে আমরা নেত্রীর মুক্তির উদ্যোগ নেব। পাশাপাশি দল যে উদ্যোগ নেবে তার সঙ্গেও থাকব।’
সম্প্রতি গুঞ্জন ওঠে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ আগেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিনি। প্রয়োজনে পরে সাক্ষাৎ করব।’


গত মঙ্গলবার শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদসহ দলের তিন সংসদ সদস্য। সাক্ষাৎ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘চেয়ারপারসন খুবই অসুস্থ। তিনি হাত-পা নাড়াচাড়া করতে পারেন না। একা একা চলাফেরা করতে পারেন না। এ অবস্থায় অবিলম্বে তার সুচিকিৎসা দরকার। এজন্য তার মুক্তি দরকার। মুক্তি পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবেন নেত্রী।’ পরেরদিন বুধবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিএনপিদলীয় অন্য চার সংসদ সদস্য। সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মাদ সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানাচ্ছি আমাদের চেয়ারপারসনকে জামিন দেওয়ার জন্য। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএসএমএমইউতে গিয়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দেখার জন্য অনুরোধ জানাই। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, ‘জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রী বিদেশে যাবেন এমন কথা কাউকে তিনি বলেননি।’

দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে বুধবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হারুনুর রশীদ। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিনের বিষয়ে উদ্যোগ নিতে তার কাছে অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে চেয়ারপারসনের জামিনের ব্যবস্থা করতে অনুরোধ করেন। একই দিন রাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। এ সময় বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যদের অনুরোধের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানান ওবায়দুল কাদের। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের বিষয়ে কোনো কথা বলবা না। তার বিষয়ে নো কম্প্রোমাইজ।’
প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে হারুন গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদে যোগ দিয়েছিলাম সেখানে দলের, দেশের জনগণের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। আমরা সংসদে ভ‚মিকা রাখছি। পাশাপাশি দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন গুরুতর অসুস্থ। আমরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। তাই তার মুক্তির জন্য উদ্যোগের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। প্রধানমন্ত্রীকে বোঝানোর জন্য বলেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা থেমে থাকব না। সংসদ সদস্যরা বসে সিদ্ধান্ত নেব পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে। পাশাপাশি দল যে উদ্যোগ নেবে তার সঙ্গেও থাকব।’

দলের সংসদ সদস্যরা দুভাগে ভাগ হয়ে দুদিন তাদের নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তারা দুরকম বক্তব্য দিয়েছেন। বিষয়টি দলে ও দলের বাইরে সমালোচনার জন্ম দেয়। পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমতি দেওয়ার পর দুভাগে সাক্ষাতের কথা বলায় দুদিনে আমরা সাক্ষাৎ করেছি।’ দুই ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জামিন নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার যে কথা হারুন ভাই বলেছেন, সে বিষয়ে তিনিই বলতে পারবেন।’ এ বিষয়ে হারুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গণমাধ্যমে যেভাবে আমার বক্তব্য এসেছে, আসলে আমি সেভাবে বলতে চাইনি। জামিন হলে নেত্রী কোথায়, কীভাবে চিকিৎসা নেবেন সে সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত