তামাকপণ্য বিক্রিতে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ০২:০০ এএম

সিগারেট, বিড়ি, জর্দাসহ যেকোনো তামাকপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে বিক্রেতাদের। যাদের ট্রেড লাইসেন্স আছে, তাদেরও তামাকপণ্য বিক্রির লাইসেন্স নিতে হবে। নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে এক বছর মেয়াদি ওই লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ তামাকপণ্য বিক্রি করতে পারবে না। এমনকি মুদি দোকান, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্টুরেন্টে কোনো তামাকপণ্য বিক্রি করা যাবে না।

এসব বিধান রেখে ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা’র খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। খসড়াটির ওপর এখন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এটি কার্যকর করা হবে। 

স্থানীয় সরকার সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ দেশ রূপান্তরকে জানান, তামাকপণ্য বিক্রি ও বিপণন নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তামাকপণ্য বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্তদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার ব্যবস্থাও নেই। এ কারণেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে অনিয়ন্ত্রিতভাবে তামাকপণ্য বিক্রি হচ্ছে। সহজলভ্যতা ও সহজপ্রাপ্যতার কারণে তামাকপণ্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশে তামাকের ব্যবহার নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তা বাস্তবায়নে তামাকপণ্য বিক্রেতাদের লাইসেন্স নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করে নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, এই নির্দেশিকা স্থানীয় সরকার বিভাগের তত্ত্বাবধানে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আওতাভুক্ত সব পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে তামাকপণ্য ব্যবহার হ্রাস করবে। নির্দেশিকার খসড়ায় ১৮ বছরের নিচে কারও কাছে তামাকপণ্য বিক্রির পাশাপাশি অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দিয়ে তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ এ নির্দেশিকা বাস্তবায়ন করবে। অর্থাৎ স্থানীয় সরকারের এ নির্দেশনা সারা দেশেই কার্যকর হবে।

লাইসেন্স দেওয়া সম্পর্কে খসড়ায় বলা হয়েছে, তামাকপণ্য বিক্রয়কেন্দ্র এবং যেখানে তামাকপণ্য ক্রয়-বিক্রয় হবে, তার জন্য অবশ্যই আলাদা লাইসেন্স থাকতে হবে। প্রতিবছর নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে নবায়ন করা যাবে। একটি লাইসেন্স দিয়ে একটি জায়গায় তামাকপণ্য বিক্রি করা যাবে। একাধিক জায়গার জন্য আলাদা আলাদা লাইসেন্স নিতে হবে। কোনো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, খাবারের দোকান, মুদি দোকান ও রেস্টুরেন্টে তামাকপণ্য বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে না। হোল্ডিং নম্বর ছাড়া কোনো ধরনের তামাকপণ্য বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হবে না। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকপণ্য বিক্রির জন্য কোনো লাইসেন্স দেওয়া হবে না।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করলে এর আওতা আরও বাড়াতে পাড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়া জনসংখ্যার ঘনত্ব ও চাহিদা বিবেচনা করে তামাকপণ্য বিক্রির লাইসেন্স দেওয়ার বিষয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করবে।

খসড়া নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, তামাকপণ্য বিক্রির লাইসেন্স হস্তান্তরযোগ্য নয়। লাইসেন্সের একটি কপি অবশ্যই বিক্রয়কেন্দ্রে দৃশ্যমান অবস্থায় রাখতে হবে। বাংলাদেশে প্রস্তুত নয় বা বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন নেই এমন বিড়ি, সিগারেট, চুরুট, জর্দা, সাদাপাতা, গুল, নস্যি, ইল্টরেনিক সিগারেট, তরল নিকোটিন, হিটেড সিগারেটে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী থাকতে হবে। না হলে কোনো তামাকপণ্য বিক্রি করা যাবে না।

তামাকপণ্য প্রস্তুত হয় এমন চুল্লি বা কারখানাকেও লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে এবং সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো চুল্লি বা কারখানার লাইসেন্স দেওয়া হবে না।   

অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে খসড়া নির্দেশিকায়। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কর্র্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। নিয়মিত পরিচালিত মোবাইল কোর্ট তাৎক্ষণিকভাবে আইন লঙ্ঘনের অপরাধ আমলে গ্রহণ করে মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক আইন মোতাবেক শাস্তি প্রদান এবং আইন প্রতিপালনে সহায়তা প্রদান করবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের দেশ রূপান্তরকে বলেন, তামাক বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনার পদক্ষেপ অবশ্যই ভালো। কারণ, তামাক ক্ষতিকর পণ্য। এটি বিক্রির ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নেই। ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো টং দোকান বা বাক্স নিয়ে বাসস্ট্যান্ড, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ সর্বত্র গড়ে উঠছে। অল্প পুঁজি নিয়ে যার যখন ইচ্ছা তখনই তামাকপণ্য বিক্রি শুরু করছে। তিনি বলেন, তামাকপণ্য বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় আনা হলে তখন বিক্রিও কমে যাবে। ২০৪০ সালে প্রধানমন্ত্রী তামাকমুক্ত দেশ গড়ার যে অঙ্গীকার করেছেন, তা অর্জনে এটি একটি পদক্ষেপ হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত