ঢাকা দক্ষিণে রাজস্ব আদায়ে ধস

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রাজস্ব আদায়ে যেন ধস নেমেছে। বিশেষ করে গৃহকর আর বাজার সালামি থেকে কাক্সিক্ষত রাজস্ব পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে এই দুই খাত থেকেই বেশি রাজস্ব আসার কথা। গত পাঁচ বছরের বাজেট বই পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আদায় দিন দিন কমছে। বার্ষিক বাজেটে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার ৩০ ভাগও অর্জিত হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে রাজস্ব আদায়ে কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে ডিএসসিসি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. ইউসুফ আলী সরদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ে আমরা কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছি না। বিশেষ করে বাজার সালামি আদায়ে সমস্যা বেশি হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে, মার্কেটগুলো নির্ধারিত সময়ে নির্মিত না হওয়া ও বেশকিছু মার্কেটে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা থাকা। আশা করছি এসব জটিলতা থেকে দ্রুত উত্তরণ সম্ভব হবে।’

গত পাঁচ বছরের রাজস্ব বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজার সালামি খাতে সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছিল ৩০৫ কোটি টাকা; আদায় হয়েছে ৬১ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) ধরা হয় ৩৩০ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ২১১ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজার সালামিতে ৩১৩ কোটি টাকা আয় ধরা হলেও আদায় হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। আর কর (গৃহ) ধরা হয় ৫১৫ কোটি টাকা, যেখানে আদায় হয় ১৮০ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে বাজার সালামি খাতে আয় ধরা হয়েছিল ৬৫০ কোটি টাকা আর আদায় হয় ১০৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) খাতে আয় ধরা হয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা আর আদায় হয় ১৯৫ কোটি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাজার সালামি থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয় ১০০ কোটি টাকা, আদায় হয় ১৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) খাতে আয় ধরা হয়েছিল ২৮৫ কোটি টাকা, আদায় হয় ১৮০ কোটি টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজার সালামি থেকে আয় ধরা হয়েছিল ১০০ কোটি টাকা আর আদায় হয় ৫৫ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে কর (গৃহ) আয় ধরা হয়েছিল ২৭৫ কোটি টাকা আর আদায় হয় ১৭৪ কোটি ২০ লাখ টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজস্ব বিভাগে দক্ষতার অভাবে ডিএসসিসি তার কাক্সিক্ষত আয় করতে না। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ মহলকে খুশি করতে এমন আয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবায়নের এই অবস্থা। এভাবেই চলছে ৫-৬ বছর। ২০১৯-২০ চলতি অর্থবছরও বাজার সালামি থেকে ধরা হয়ে হয়েছে ৩১০ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ধারেকাছেও যেতে পারবে না রাজস্ব বিভাগ।

কর্মকর্তারা জানান, ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ১০-১২টি মার্কেটে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে এসব মার্কেটে দোকান বরাদ্দ পেয়ে সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত হারে টাকাও জমা দিয়েছেন। এতে প্রতিষ্ঠানটির কোষাগারে কয়েকশ কোটি টাকা জমা পড়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর পার হলেও দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি অনেক স্থানে মার্কেট নির্মাণেই হাত দিতে পারেনি ডিএসসিসি। আবার নিয়ম অনুযায়ী দোকানের সালামির অর্থ অন্য খাতে খরচ করার বিধান না থাকলেও সেসব টাকা উন্নয়ন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের জন্য ব্যয় করা হচ্ছে।

একাধিক প্রকৌশলী জানান, রাজস্ব আয় না থাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের ‘ম্যাচিং ফান্ড’ (নিজস্ব তহবিল) নিয়ে বিপাকে রয়েছে ডিএসসিসি। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সরকারি অর্থ বরাদ্দের পর ডিএসসিসির নিজস্ব ফান্ড থেকে যে অর্থ দেওয়ার কথা তা দিতে পারছে না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সরকারি ফান্ড থেকে অর্থ পেলেও ডিএসসিসির নির্ধারিত অংশ দীর্ঘ সময়েও তারা পান না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত