দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ

তীব্র স্রোতে লঞ্চ ও ফেরি বন্ধ দুই পাড়ে যানজট, দুর্ভোগ

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:১৬ এএম

পদ্মায় তীব্র স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচল করতে পারছে না নৌযান। গতকাল শনিবার বেলা ২টা থেকে ফেরিতে যানবাহন পারাপার প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ব্যস্ততম এই নৌরুটে শুধুমাত্র ৩টি ছোট আকারের ফেরি চলাচল করছে। এ পরিস্থিতিতে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া প্রান্তে আটকা পড়েছে শত শত যাত্রীবাহী বাস এবং পণ্যবাহী ট্রাক। এর আগে গত শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে বন্ধ হয়ে যায় লঞ্চ চলাচল। এতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখী হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাট কর্র্তৃপক্ষ জানায়, পদ্মায় গত কয়েক দিনের তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নদী পার হতে সময় লাগছে আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। স্রোতের  কারণে ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে ১নং ফেরিঘাট পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে। ২নং ফেরিঘাটও যেকোনো সময় নদীতে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। বর্তমানে এই রুটে ১৬টি ফেরির মধ্যে ৩টি ইউটিলিটি ফেরি চলাচল করছে। এসব ফেরিতে শুধু যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে।

পাটুরিয়া ঘাট শাখার ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম জিল্লুর রহমান জানান, গত কয়েক দিন ধরেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। দৌলতদিয়া প্রান্তে দুটি ঘাট ভেঙে যাওয়ায় সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। নৌ দুর্ঘটনা এড়াতেই শনিবার দুপুর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনূকূলে এলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হবে। 

দৌলতদিয়া ঘাটে ফরিদপুরগামী হান্নান বলেন, ‘আমরা ঢাকা থেকে ঘাট পর্যন্ত এসে লঞ্চে পার হয়ে দৌলতদিয়া গিয়ে বাসে উঠি। লঞ্চ ও ফেরি দুটিই একসঙ্গে বন্ধ হওয়ায় আমরা এখন কীভাবে পার হব বুঝতে পারছি না। 

পাটুরিয়া ৫নং ঘাটের যাত্রী পরিমল জানান, পূজার ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। শনিবার ভোরে ঘাটে এসে পৌঁছেছি। কিন্তু দুপুর ২টা বাজার পরও ফেরির দেখা পেলাম না।

খুলনাগামী সোহাগ পরিবহনের চালক মান্নান বলেন, ‘সকাল ৭টায় ঘাট এলাকায় এসেছি। এখন ৩টা বাজে ফেরিঘাটের কাছেই যেতে পারছি না। আবার শুনলাম ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। কর্র্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন সড়ক ব্যবহার করতে। এখন আমরা এত যাত্রী নিয়ে কোথায় যাব।’

ট্রাকচালক জসিম বলেন, ‘তিন দিন ধরে পাটুরিয়া টার্মিনালে আটকে রেখেছে। ভাবছি যাত্রীবাহী বাস পারাপার হয়ে গেলে আমারা ফেরিতে উঠতে পারব। কিন্তু ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় কবে যে আমরা ঘাট পার হব, সেটা বলতে পারছি না।’

সরেজমিনে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার শত শত বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যানবাহন পারাপার বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সিরিয়ালে বসে থেকেও ফেরির নাগাল পাওয়া যায়নি। এ পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ যানবাহনের যাত্রীকে বাস ছেড়ে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে ফেরিঘাটে গিয়ে নদী পার হতে দেখা গেছে। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি তাদের খচর করতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত