খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের প্রস্তাব

রূপালী ব্যাংকের শাস্তি দাবি টিআইবির

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২:০৩ এএম

বস্ত্র খাতের একটি খেলাপি প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো রূপালী ব্যাংকের প্রস্তাবকে ন্যক্কারজনক ঘটনা বলে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল

বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রস্তাবে ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান নীতিমালা অগ্রাহ্য করা হয়েছে দাবি করে বিষয়টি নাকচ করতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল রবিবার টিআইবির জনসংযোগ বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে ওই ঘটনায় রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ব্যাংক খাতের দুর্গতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত একটি স্বাধীন কমিশন গঠনেরও দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মাদার টেক্সটাইলের ঋণ পুনঃতফসিলের প্রস্তাব সংক্রান্ত যে খবর গণমাধ্যমে বেরিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিটি গত এক যুগে সাতবার পুনঃতফসিলের সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু তারা ঋণ পরিশোধের কোনো আগ্রহ দেখায়নি। এরপরও রূপালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ৪০০ কোটি টাকার সম্পূর্ণ সুদ মওকুফ করে আসল আদায়ে ২০৪০ সাল পর্যন্ত সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। সংবাদ মাধ্যম থেকে আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, এ ধরনের ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য ন্যূনতম অর্থ (মোট ঋণের ৫ ভাগ) এককালীন পরিশোধের যে ব্যাংকিং নিয়ম রয়েছে তাও অগ্রাহ্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ যেভাবে বিদ্যমান সব নীতিমালা অগ্রাহ্য করে এই প্রস্তাব দিয়েছে তাতে প্রমাণ হয় যে, তারা কার্যত কায়েমি স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। এছাড়া নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ন্যূনতম পেশাদারিত্ব দেখানোর সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংক খাতে জনগণের আমানতের টাকা লুটপাট করা হয়েছে জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। রূপালী ব্যাংকের এমন অভাবনীয় প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ার মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক হবে না। বরং এমন বিধিবহিভর্‚ত প্রস্তাব আসার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে হবে। পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো যোগসাজশের ঘটনা ঘটে থাকলে বা পরিচালনা পরিষদের উক্ত সুপারিশের পেছনে স্বার্থের দ্ব›দ্ব থাকলে তা চিহ্নিত করে কঠোর প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত সংস্কারে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের আর কোনো বিকল্প নেই। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই যে, সরকার পরিস্থিতির গুরুত্ব যথাযথভাবে অনুধাবন করে কাক্সিক্ষত সংস্কারের জন্য খাত সংশ্লিষ্ট নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে অতি দ্রুত একটি কমিশন গঠন করবেন। যারা বাস্তবতার নিরিখে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা পেশ করবেন। যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকার কায়েমি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বাস্তবায়ন করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত