চাঁদপুর তিন নদীর মিলনস্থল বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় বেড়াতে এসে বজ্রপাতে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুর ১টার দিকে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কচুয়া উপজেলার আন্দিরপাড় গ্রামের অহিদা বেগম (৬০), তার মেয়ে রেহেনা বেগম (৩২), নাতি সাব্বির (১০) ও নাতনি সামিয়া (৮) । অহিদার মেয়ে শাহিদা বেগম জানান, কচুয়া থেকে রবিবার দুপুরে পরিবার নিয়ে ডাক্তার দেখাতে চাঁদপুর শহরে আসেন তার মা অহিদা ও বোন রেহেনাসহ তার দুই সন্তান। ডাক্তার দেখানোর আগে তারা শহরের বড় স্টেশন মোলহেড এলাকায় মেঘনা মোহনায় নৌকাযোগে ঘুরতে বের হন। দুপুরে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা নৌকা থেকে নেমে নদীতীরে গাছের নিচে আশ্রয় নেন। এ সময় বৃষ্টির পাশাপাশি বিকট শব্দে কয়েকটি বজ্রপাত হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার এসআই পলাশ বড়–য়া জানান, স্থানীয়রা আহতদের চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল বলেন, তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে গেছে। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাদের মৃত্যু হয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান। এ সময় তিনি নিহতদের পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেন।
বাগেরহাট: মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে বিমল মিস্ত্রী (৫৫) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। দুপুরে উপজেলার হোগলাপাশা গ্রামে গাছ কাটার সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা।
মাগুরা: দুপুরে মহম্মদপুরের ঝামা বাজার এলাকায় বজ্রপাতে বিপ্লব বিশ্বাস (৩৫) নামে এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার মণ্ডলগাতী গ্রামের মৃত খসরুজ্জ ামানের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ঝামা বাজারে বিপ্লবসহ কয়েকজন শ্রমিক একটি ভবনের ছাদে কাজ করছিলেন। এ সময় বিপ্লব ও হুমায়ুন নামে দুজন বজ্রপাতের শিকার হন। উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিপ্লবকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার বাঁশতৈল গ্রামে মাঠে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন মোসলেম মোল্লা (৬২) নামে এক কৃষক। তিনি ওই গ্রামের মৃত তেহমান মোল্লার ছেলে।
মাদারীপুর : গতকাল বিকেলে সদর উপজেলার বাহ্মন্দী এলাকায় বজ্রপাতে বিল্লাল মোল্লা (৪৫) নামের এক ভ্যানচালক নিহত হন। তিনি ওই এলাকার ইয়াছিন মোল্লার ছেলে। বিল্লালের বাবা জানান, বৃষ্টির মধ্যেই ঘর নির্মাণ করছিলেন তার ছেলে। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি আহত হন। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে।
